প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়ার যুদ্ধবিরোধী বিরোধী রাজনীতিবিদ লেভ শ্লোসবার্গকে ১১ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীকে ‘অসম্মান’ করার অভিযোগে এবং তাদের সম্পর্কে ‘মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর’ কারণে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পসকভের একটি আদালত ৬৩ বছর বয়সী শ্লোসবার্গকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন। আদালত তাকে ‘রুশ ফেডারেশনের সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবহারকে অসম্মান করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে কর্মকাণ্ড চালানোর’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায়ের পর শ্লোসবার্গ আদালতের সিদ্ধান্তের নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, এই মামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল তার রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক অবস্থানের কারণে তাকে শাস্তি দেওয়া। শ্লোসবার্গ রাশিয়ার উদারপন্থী রাজনৈতিক দল ইয়াবলোকোর উপপ্রধান। দলটি জানিয়েছে, তারা আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছে। আদালতে দেওয়া শেষ বক্তব্যেও শ্লোসবার্গ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রাশিয়ার সংবাদপত্র নোভায়া গাজেতায় প্রকাশিত তার বক্তব্যের লিখিত অনুলিপি অনুযায়ী, তিনি বিচারপ্রক্রিয়াটিকে ‘তদন্তের একটি অভিনয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, এই মামলার লক্ষ্য ছিল স্পষ্টতই বেআইনি একটি উদ্দেশ্য পূরণ করা। শ্লোসবার্গ আবারও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধবিরতি এবং রাজনৈতিক সংলাপ শুরুর পক্ষে কথা বলেন। তবে বক্তব্য দেওয়ার সময় আদালতের বিচারক তাকে কয়েকবার থামিয়ে দেন। রাষ্ট্রপক্ষ শ্লোসবার্গের জন্য ১২ বছর এক মাসের কারাদণ্ড চেয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রকাশিত বিভিন্ন মন্তব্যের পর তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়। শ্লোসবার্গের বিরুদ্ধে রায়ের কয়েক মিনিট আগে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট ইয়াবলোকোর করা আরেকটি আপিল খারিজ করে দেন। সেপ্টেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে দলটিকে অংশ নিতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ওই আপিল করা হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে ইয়াবলোকোকে নির্বাচনের ব্যালট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দলটির বিরুদ্ধে ‘আন্তর্জাতিক এলজিবিটি আন্দোলনকে’ প্রকাশ্যে সমর্থনের অভিযোগ আনা হয়েছে। রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট এই আন্দোলনকে ‘উগ্রপন্থী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া ক্রেমলিনপন্থী জাতীয়তাবাদী দল রোদিনার করা একটি মামলায় ইয়াবলোকোর বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে ইয়াবলোকো এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্য ১০টি দলই ইউক্রেনে রাশিয়ার চালানো যুদ্ধকে সমর্থন করে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলার বিরোধিতা করা একমাত্র নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ছিল ইয়াবলোকো। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। পুতিন প্রায় ২৭ বছর ধরে রাশিয়ার ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ায় যুদ্ধ ও সরকারের সমালোচনা থামানোর জন্য বিভিন্ন কঠোর আইন করা হয়েছে। এসব আইনের আওতায় সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কে ‘মিথ্যা তথ্য’ ছড়ানো বা বাহিনীকে ‘অসম্মান’ করার অভিযোগে বড় অঙ্কের জরিমানা এবং দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। শ্লোসবার্গের মামলাকেও দেশটির বিরোধী মত দমনের এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জনমত জরিপ সংস্থা ভিসিআইওএমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া দলের প্রতি সমর্থন কমে ৩২ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে। মে মাসের পর এটি দলটির সবচেয়ে কম জনপ্রিয়তার হার। তবে নির্বাচনে ক্রেমলিন নিজেদের পছন্দের ফলাফল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সম্পদ ব্যবহার করতে পারবে বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়। এদিকে স্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর সুযোগও অনেকটাই সীমিত করা হয়েছে। ফলে আসন্ন নির্বাচন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও স্বাধীন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন