প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এই উদ্যোগের কারণে সেলাঙ্গর রাজ্যের ক্ল্যাংয়ে অবস্থিত অ্যারোফোম ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি শ্রমিকদের বিভিন্ন অভিযোগের দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।
গত সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে হাইকমিশনের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেন যে, আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং কোম্পানি শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে।
হাইকমিশনকে দেওয়া একটি লিখিত অঙ্গীকারনামায় অ্যারোফোম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য তাদের প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে প্রায় ছয় সপ্তাহ সময় লাগবে। একটি সম্পত্তি বিক্রির প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে, বেতন সংক্রান্ত বিষয় ছাড়াও অন্যান্য সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব সমস্যার মধ্যে শ্রমিকদের জিম্মি করে রাখা পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া, আবাসন সুবিধার উন্নয়ন, চিকিৎসা ও পরিবহন সেবা বৃদ্ধি এবং বেতন থেকে আমানত কর্তনের প্রথা বাতিলের উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কোম্পানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে ভবিষ্যতে প্রতিটি কর্মীকে মাসিক পে-স্লিপ বিস্তারিত তথ্যসহ দেওয়া হবে।
শ্রমিক নিয়োগের সময় অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে অ্যারোফোম কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এ অর্থ বাংলাদেশের তৃতীয় পক্ষের রিক্রুটিং এজেন্টদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কোম্পানির কোন সম্পৃক্ততা এই বিষয়ে নেই। তবে শ্রমিকদের স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে তারা।
কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে জোরপূর্বক শ্রম, মানসিক হয়রানি কিংবা যেকোনো ধরনের অবমাননাকর আচরণ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রমিকদের অভিযোগগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে একজন নির্দিষ্ট কর্মকর্তাও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে তারা এই বিষয়টির ওপর নিবিড় নজর রাখবে এবং প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন