প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগে প্রাণভয়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এক গৃহবধূ। তবে পালিয়ে আসার সময় মাত্র এক মাস বয়সী বুকের দুধের শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিতে পারেননি তিনি। ফলে একদিকে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, অন্যদিকে শিশুসন্তানকে রেখে আসার বেদনা—দুইয়ের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে ওই মায়ের।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ চিনু বাড়ৈর অভিযোগ, প্রায় ১০ বছরের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন সময়ে তিনি স্বামীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সংসারে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। সর্বশেষ নির্যাতনের পর নিজের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তিনি স্বামীর বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন বলে দাবি করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের বাসিন্দা চিনু বাড়ৈ প্রায় ১০ বছর আগে একই এলাকার অজিত হালদারের সঙ্গে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিনু বাড়ৈর দাবি, স্বামীর চাহিদা পূরণ করতে একপর্যায়ে বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা এনে দেন তিনি। এরপরও বিভিন্ন সময়ে আবারও টাকা আনার জন্য তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হতো।
অভিযোগে তিনি আরও বলেন, প্রায় সাত মাস আগে তার বাবা মারা যান। এরপর বাবার বাড়ি থেকে আর্থিক সহায়তা এনে দিতে না পারায় তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সচেতন মহলের উদ্যোগে একাধিকবার পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট সকালে স্বামীর বাড়িতে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার পাশাপাশি চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে নিজের জীবন ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন চিনু বাড়ৈ। তবে ওই সময় মাত্র এক মাস বয়সী শিশুকন্যাকে সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ হয়নি তার। মায়ের বুকের দুধের বয়সী শিশুকে স্বামীর বাড়িতে রেখে আসায় এখন সন্তানের নিরাপত্তা ও শারীরিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি।
চিনু বাড়ৈ বলেন, “নিজের জীবন বাঁচাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসতে হয়েছে। কিন্তু আমার এক মাসের শিশুকে রেখে আসার কষ্ট কোনোভাবেই সহ্য করতে পারছি না। আমি আমার সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।”
ভুক্তভোগীর দাবি, স্বামীর বাড়িতে থাকা শিশু সন্তানসহ অন্য সন্তানের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। এ অবস্থায় বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় স্বামী অজিত হালদারের বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন চিনু বাড়ৈ।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অজিত হালদারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন