প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নরওয়ে ফুটবল দলের কোচ স্তলে সুরবাকেনের হাত ধরে ২০২৬ বিশ্বকাপে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি এক রূপকথার জন্ম দিয়েছে। অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে মাঠের ফুটবলে দলটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। এই সাফল্যের নেপথ্যের কারিগর হিসাবে স্তলে সুরবাকেন কেবল মাঠের কৌশলেই সফল নন, বরং তার নিজের জীবনটিও এক অদম্য লড়াইয়ের উপাখ্যান।
২৫ বছর আগে, ২০০১ সালে, সুরবাকেন এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। কোপেনহেগেনের হয়ে অনুশীলনের সময় মাঠে লুটিয়ে পড়ে হার্ট অ্যাটাক করেন তিনি। দীর্ঘ সাত মিনিটের জন্য তার হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, চিকিৎসকদের ভাষায় তিনি তখন ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ হয়ে গিয়েছিলেন। অ্যাম্বুলেন্সে হৃদস্পন্দন ফিরে আসার পর ২৬ ঘণ্টা তিনি কোমায় ছিলেন। সেই সময় সুরবাকেনের মায়ের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তিনি সন্তানের শেষকৃত্যের পরিকল্পনা করতে শুরু করেছিলেন। মৃত্যুর উপত্যকা থেকে ফিরে এসে ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানলেও কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।
নরওয়ের দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতে তাকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। কাতার বিশ্বকাপ বা ইউরো বাছাইয়ে ব্যর্থতার পর তার চাকরি নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছিল। তবে সেই ব্যর্থতা থেকে তিনি নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ইতালিকে দুই দফা পরাজিত করে সুরবাকেনের দল নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। এরপর মূল পর্বে ইরাক, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট এবং পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে সারা বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে নরওয়ে।
নিজের দলের সাফল্য নিয়ে বিনয়ী সুরবাকেন মনে করেন, এর পুরো কৃতিত্ব আর্লিং হলান্ড, মার্টিন ওদেগোরদের মতো তরুণ ফুটবলারদের। তিনি বিশ্বাস করেন, এই খেলোয়াড়রা কেবল নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসই নয়, বদলে দিয়েছেন পুরো দেশের চিত্র।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন