প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন, যিনি ডাকনাম ডেভিড ইমন, গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে পারছেন না। এরই মধ্যে চাঁদা দাবি করে এক ব্যবসায়ীকে দেওয়া ইমনের হুমকির একটি অডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অডিওতে ইমনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, "এক কোটি বলতেছি, এক কোটি নিব। চার আনাও কম হবে না।"
জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে নগরের এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর কাছে মোবাইল ফোনে ইমন এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। প্রাণনাশের হুমকির কারণে জুলাই মাসের মাঝামাঝি ওই ব্যবসায়ী তাকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু ভয়ের কারণে তিনি থানায় মামলাও করেননি এবং পুলিশকেও বিষয়টি জানাননি। যোগাযোগ করার পরও এ বিষয়ে কথা বলতে তিনি রাজি হননি।
৪৩ সেকেন্ডের ফাঁস হওয়া অডিওতে ইমনকে বলতে শুনা যাচ্ছে, যদি তিনি লোক পাঠান তাহলে দাবি করা টাকার একটিও কম নেবেন না। এমনকি দেশের একজন শীর্ষ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বলেন, "কিছুই হবে না।" এছাড়া ব্যবসায়ীকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত সময় দিয়ে জানান, "বেঁচে থাকলে ভবিষ্যতে আরও টাকা আয় করার সুযোগ থাকবে, কিন্তু প্রাণ না থাকলে সেই টাকার কোনো মূল্য থাকবে না।"
এ ঘটনার পর ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব শাহরিয়ার জানান, দীর্ঘদিন ধরেই চট্টগ্রামের অনেক আইএসপি প্রতিষ্ঠান জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিয়ে আসছে। ভয়ের কারণে তারা পুলিশ কিংবা সংগঠনের কাছে বিষয়টি জানাতে সাহস পাননি।
তবে বর্তমানে পুলিশ কমিশনার ও জেলা পুলিশ সুপার ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছেন, চাঁদাবাজির শিকার হলে যেন দ্রুত পুলিশকে জানানো হয়। তিনি আরও বলেন, এমন চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা যাতে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জানান, চাঁদাবাজি বা হুমকির ঘটনায় ভুক্তভোগীরা পুলিশের কাছে রিপোর্ট করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইমনকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার সহযোগীদের ধরতে অভিযান চলছে।
গত ২৯ জুলাই যশোর থেকে ভারতে পালানোর সময় তিন সহযোগীসহ ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজি সহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। পরে ফটিকছড়ি থানার হত্যা ও অস্ত্র মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ইমন পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি মাসে গড়ে প্রায় এক কোটি টাকা চাঁদা আদায় করতেন। এর অর্ধেক বিদেশে অবস্থানরত পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর কাছে পাঠানো হতো এবং বাকি টাকা তিনি নিজের কাছে রাখতেন।
পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজির আগে ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য সংগ্রহ করা হতো। তারপর বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে গুলি ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করা হতো। টাকা না দিলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটত বলে ইমন জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন