প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরব এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার মধ্যবর্তী মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মকাণ্ড পালন করেছেন চরসোনারামপুর গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামটি রক্ষার দাবিতে তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। অবরোধের ফলে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে, প্রথমে চরসোনারামপুর বাসিন্দারা গ্রামে মানববন্ধন করেন। এর পরে, তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা সদরের বিভিন্ন রাস্তায় প্রদক্ষিণ করেন এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গোলচত্বরে গিয়ে অবস্থান নেন। দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত এই অবরোধ অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় মহাসড়কের সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
আন্দোলনকারীদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ‘শত বছরের প্রাচীন এই মেঘনার চরের পাশ থেকে ইজারার নামে বালু লুটে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা। যদি এ সম্পর্কে কথা বলা হয়, তবে গ্রামবাসীদের উপর অমানবিক নির্যাতন নেমে আসে।’ তিনি সরকার দ্বারা গ্রাম রক্ষার জন্য উচ্চপর্যায়ের সুদৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করেন। অন্যথায়, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের এই বাসিন্দা।
ডলি বর্মণ নামে গ্রামের আরেক নারী বাসিন্দা জানান, ‘রাত হলেই গ্রামে আতঙ্ক নেমে আসে। বালুমহালের ক্যাডার বাহিনী স্পিডবোট নিয়ে এসে গ্রামে এসে মানুষের সামনে অস্ত্রশস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেয়। তারা গভীর রাতে চরের কাছাকাছি এসে মেঘনা থেকে বালু উত্তোলন করে। এর ফলে আমাদের গ্রাম ভাঙনের কবলে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু বসতবাড়ি মেঘনার বুকে বিলীন হয়ে গেছে।’
তিনি আরও জানান, তাদের গ্রামে ৪ থেকে ৫ হাজার বাসিন্দা আছেন, যারা বর্তমানে চর ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ডলি বর্মণ বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এ বিষয়ে সুবিচার দাবি করছি।’
এদিকে, মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মুহাম্মদ ছড়া ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি গ্রামবাসীদের বালু উত্তোলনের বিষয়টি রোধ করার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা বলার আশ্বাস দিলে, গ্রামবাসী অবরোধ তুলে নেন। পরে হাইওয়ে পুলিশ এবং আশুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহাসড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন