প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যায় ব্যবহার হওয়া অস্ত্র হলো ক্যাসিনো খালেদের। চট্টগ্রামের মাজেদুল হেলালকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এ ধরনের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সিআইডি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের পিএস বিপ্লব এবং পাঁচজনের নাম উঠেছে। সিআইডির দাবি, ভারতে গ্রেফতার ফয়সালসহ তিনজনকে ফেরালেই পুরো হত্যার রহস্য উদঘাটিত হবে। একই সঙ্গে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, মমতার বক্তব্য সামনে রেখে আসামিদের ফেরানোর কাজ চলছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাংলাদেশে ওসমান হাদী হত্যার বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি সব জানেন এবং মুখ খুললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। দেশের স্বার্থেই তিনি চুপ রয়েছেন।
মমতার এই মন্তব্যের পর হাদি হত্যার আলোচনা পুনরুত্থান হয়েছে। ডিবি থেকে সিআইডিতে হস্তান্তরের ৫ মাসের মধ্যে তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে।
রাজধানীর পল্লবীর সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পিকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উল্লেখ করে গত ৬ জানুয়ারি ডিবি হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। বাদির নারাজিতে ১৫ জানুয়ারি থেকে ওই মামলার অধিকতর তদন্তে নামে সিআইডি।
এক সপ্তাহের মধ্যে হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে ছাত্রলীগ কর্মী মো. রুবেলকে গ্রেফতার করে সংস্থাটি। তার জিজ্ঞাসাবাদে সামনে আসে, প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে হত্যার জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের পিএস বিপ্লব ও আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জমান রুবেলের নাম। হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক হিসেবে ছাত্রলীগ নেতা মাইনুদ্দিন শুভর নামও উঠে এসেছে।
নরসিংদী থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ফরেনসিক পরীক্ষা সিআইডির ল্যাবে করা হয়, যার মাধ্যমে প্রমাণ মেলে যে এটি হত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে। অস্ত্রের গায়ের নম্বরের সূত্র ধরে ঢাকায় দুটি এবং চট্টগ্রামে ১টি দোকানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ব্যবসায়ী মাজেদুল হেলালকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে মাজেদ জবানবন্দি দেন যে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া তাকে অস্ত্রটি দিয়েছিলেন।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট একজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়া হয়। এ মামলায় অস্ত্র সরবরাহকারীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিকেও শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ডিবির তদন্তে ১৭ জনের পাশাপাশি আরো ৬ জনের নাম পাওয়া গেছে এবং আমরা তদন্তের শেষ পর্যায়ে রয়েছি। জসীম উদ্দিন জানান, সিআইডি কর্তৃক অভিযুক্তদের ভারতে ফেরত আনার জন্য সব ধরনের যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং তাদের কাছে পেলে জিজ্ঞাসাবাদ করে শীঘ্রই চার্জশিট দেয়া সম্ভব হবে।
এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারতে গ্রেফতার হাদির হত্যাকারীদের ফেরানোর কাজ চলছে। বাইরের কারো বক্তব্য আমলে নেয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেছেন, ‘পাশের দেশের নির্বাচনে যিনি হেরে গেছেন, তিনি তাদের সরকারের উদ্দেশ্যে কথা বলছেন। তাই এ নিয়ে বাংলাদেশে মন্তব্য করা উচিত হবে না।’
কূটনৈতিক চ্যালেনের মাধ্যমে অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে চায় সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ বিষয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন