প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালানোর সাহস করে, তাহলে তা হবে দেশটির শাসনব্যবস্থার অন্যতম ‘শেষ সিদ্ধান্ত’—এমন সতর্কতা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার, সদেরোত এলাকার আফিকি দাত হেজদের ইয়েশিভা পরিদর্শনের সময় তিনি গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং তেহরানের সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে কথা বলেন।
নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন, ইরান পুরো অঞ্চলে এবং আশপাশের সব দেশকে আক্রমণ ও হুমকি দিচ্ছে, তবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পরিণাম সম্পর্কে তারা সচেতন হওয়ায় এখানে কোনো উসকানি দেওয়ার সাহস দেখাচ্ছে না।
সদেরোতের ওই ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গাজা উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিবর্তনের দাবি করে নেতানিয়াহু বলেন, গাজাজুড়ে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং যারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হুমকি সৃষ্টি করছে তাদের বেছে বেছে নির্মূল করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, আগের দিন গাজায় হামাসের শিন বেত প্রধানকে হত্যা করা হয়েছে এবং এখন গাজায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। এ সময় ৭ অক্টোবরের গণহত্যার পর থেকে নিহত হামাস ও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের একটি তালিকা তুলে ধরেন তিনি। তালিকায় ইয়াহিয়া সিনওয়ার, মোহাম্মদ দেইফ, ইসমাইল হানিয়াহ, মোহাম্মদ সিনওয়ার, হাসান নাসরুল্লাহ এবং ইজ্জ আল-দ্বীন আল-হাদ্দাদের নাম উল্লেখ করে বলেন, ইসরায়েল তার চারপাশের বাস্তবতা বদলে দিচ্ছে এবং রাষ্ট্রটির প্রতি তৈরি হওয়া প্রতিটি হুমকিকে একে একে উপড়ে ফেলছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে হেজদের ইয়েশিভার শিক্ষার্থীদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং সাহসিকতার প্রশংসা করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা তোরাহ শিক্ষা, আত্মত্যাগ ও বীরত্বের এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে এবং যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই ইসরায়েলি জনগণের সুরক্ষায় সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে, হিব্রু সংবাদমাধ্যম এন১২ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদেরোতের মেয়র আলোন দাবিদির উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান চলাকালে শিক্ষার্থীদের একাংশকে নেতানিয়াহুর সামনে ফিলিস্তিনবিরোধী চরমপন্থী গান গাইতে দেখা যায়। তারা ১৯৯৬ সালে ফিলিস্তিনিদের হামলায় নিহত এক ইসরায়েলি দম্পতির স্মরণে তৈরি ডোভ শুরিনের বিতর্কিত গান রিমেক করে প্রতিশোধের ডাক দেয় এবং ফিলিস্তিনের নাম মুছে ফেলার মতো উগ্র স্লোগান সংগীতে তুলে ধরে।
এদিকে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানের যেকোনো হামলা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে একাধিক নিরাপত্তা সূত্র নিশ্চিত করেছে। আল-মনিটরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক উচ্চপদস্থ ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, তারা যেকোনো মুহূর্তে এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের নোটিশে তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা ও প্রস্তুতি রাখে। গত ১৩ এপ্রিল মার্কিন নৌবাহিনী কর্তৃক প্রবর্তিত অর্থনৈতিক অবরোধ শুরুর পর থেকে তেহরান কেবল উপসাগরীয় অঞ্চল ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে, কিন্তু ইসরায়েলে হামলা করা থেকে বিরত রয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ইরান হয়তো ইসরায়েলকে পরবর্তী কোনো কৌশলী সময় ব্যবহারের জন্য রেখে দিয়েছে, নয়তো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পাল্টা জবাবের তীব্রতাকে ভয় পাচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সঙ্গে পুনরায় সংঘাত শুরু হলে ইসরায়েল মূলত দেশটির অবশিষ্ট পরমাণু প্রকল্পগুলোকে একবারে ধূলিসাৎ করাকে প্রাধান্য দেবে। বিগত জুন মাসে এবং চলতি বছরের বিভিন্ন অভিযানে ইরানের অস্ত্র-মানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যেটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, তা ধ্বংস করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। তেহরানের মূল শাসনব্যবস্থা বা সাধারণ অবকাঠামোতে হামলা চালানোকে তারা দ্বিতীয় সারির লক্ষ্য হিসেবে দেখছে। এমনকি হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর গৃহীত সামরিক পদক্ষেপ কিংবা মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার কাজগুলোকেও নিজেদের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে না জেরুজালেম।
নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ একটি কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ইসরায়েলের মূল মনোযোগের কেন্দ্রে তা নেই। তাদের কৌশলগত হিসেব অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বড় কোনো সামরিক অভিযানে যাবেন না, বরং বর্তমান অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্যগুলোকে ধরে রাখার চেষ্টা করবেন। কারণ, এই অর্থনৈতিক অবরোধের ফলে ইরান ইতিমধ্যেই মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন