প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তাড়াহুড়া করে নয়, ভারতের সঙ্গে আলোচনা হলে এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে অগ্রগতি হলে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করা হবে বলে জানান নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য হলো, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখা। তবে কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
শপথ নেওয়ার পর শনিবার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
ভারত সফরের বিষয়ে তার বক্তব্য ছিল, একটু অগ্রগতি হলে এবং আলোচনা যদি জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে হয় তাহলে অবশ্যই ভারত সফর করব, যখন সময়টা উপযুক্ত হবে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, আমরা ভারতের সঙ্গে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক চাই। কেন রাখব না? তারা আমাদের প্রতিবেশী এবং আমাদের একটি কার্যকর সম্পর্ক থাকা উচিত।
তবে তিনি জানান, জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। শুধু ভারত নয়, কোনো দেশের সঙ্গেই আমাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে কিছু করা সম্ভব নয়।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর দেড় হাজার মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী হিসাবে ভারতে গেছেন। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার ফল এসেছে এবং আরও অনেক মামলা বিচারাধীন।
তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে। সুতরাং এগুলো নতুন শর্ত নয় এবং নতুন কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার বিষয় নয়; এগুলো চলমান বিষয়।
ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনাসহ অন্য অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে। হুমায়ুন কবির বলেন, আরও অপরাধী আছেন যারা ভারতে পালিয়ে আছেন। এটি বাংলাদেশের মানুষের স্বাভাবিক দাবি এবং তাদের অনুভূতির বিষয়। সেই প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারতসংযুক্ত হতে চাই।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হব এবং একটি ইতিবাচক সম্পর্ক চাই। তবে তা করতে হবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই।
ভারত সফরে কোনো তাড়াহুড়া নেই জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যদি আমরা আগামীকাল জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারি, তাহলে আগামী সপ্তাহে যেতে পারি অথবা পরের সপ্তাহেও যেতে পারি। এখানে কোনো তাড়াহুড়া নেই।
প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফরের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং আলোচনা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলোচনা এবং প্রস্তুতির বিষয়টি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফর হঠাৎ করে হয়ে যায় এমন নয়। এটি কোন খেলার বিষয় নয়।
তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের আগে কিছু প্রস্তুতি ও ভিত্তি তৈরি প্রয়োজন। আমরা সেটিই করছি।
ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে; হুমায়ুন কবির বলেন, সেখান থেকে ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার ইঙ্গিত আসছে।
বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতির বিষয়টি ভারতও স্বীকার করেছে। তিনি বলেন, আপনারা দেখছেন, ভারত থেকেও এ বিষয়ে বক্তব্য আসছে। তারা স্বীকার করেছে, বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বিশেষ করে ৫ আগস্টের পলাতক শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তারা বিষয়টি লক্ষ্য করেছে।
প্রতিমন্ত্রী এটিকে 'একটি ভালো সূচনা' হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এখন আমরা দেখি, বাকি আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয় কি না। আলোচনা এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সময় উপযুক্ত হলেই আমরা অবশ্যই ভারত সফরে যাব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন