প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ রয়েছে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে। তবে, এ সুযোগ গ্রহণের জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় পছন্দ বা ইবি-৩ শ্রেণির আওতায় যোগ্য আবেদনকারীরা নির্ধারিত আবেদনপত্র জমা দিয়ে অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে হলে প্রথমত সঠিকভাবে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। আবেদনকারীকে অভিবাসন কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিদর্শিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশের অনুমতি অথবা আইনি প্যারোলে প্রবেশের অনুমতি থাকতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে অভিবাসী ভিসা পাওয়ার যোগ্য হতে হবে। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়—দুই সময়েই তার জন্য অভিবাসী ভিসা পাওয়ার সুযোগ অবিলম্বে থাকতে হবে।
তৃতীয়ত, যে নিয়োগকর্তা আবেদনকারীর জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন, তার দেওয়া চাকরির প্রস্তাব বহাল থাকতে হবে। স্থায়ী বাসিন্দার আবেদন অনুমোদিত হলে আবেদনকারীর ওই চাকরি গ্রহণের ইচ্ছা থাকতে হবে।
চতুর্থত, আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য হতে হবে। যদি তাকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ছাড় বা আইনি সুবিধা পাওয়ার জন্য তাকে যোগ্য হতে হবে।
পঞ্চমত, আবেদনকারীর স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা থাকা যাবে না। সংশ্লিষ্ট অভিবাসন আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তাকে পূরণ করতে হবে।
ষষ্ঠত, আবেদনকারীর জমা দেওয়া সব তথ্য ও নথি সঠিক হতে হবে। অভিবাসন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী এসব তথ্য যাচাই করতে পারে।
সপ্তমত, কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনটির সঙ্গে যুক্ত চাকরির প্রস্তাব এবং নিয়োগকর্তার দেওয়া তথ্য আবেদনকারীর আবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
অষ্টমত, সব শর্ত পূরণ করার পরও আবেদন অনুমোদনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবাকে আবেদনকারীর পক্ষে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অর্থাৎ, নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না।
আই-১৪০ অনুমোদনের পর চাকরি পরিবর্তন করলেও আবেদনকারী সব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য হয়ে যান না। স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদনপত্র অন্তত ১৮০ দিন মুলতবি থাকার পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে নতুন চাকরিতে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
তবে নতুন চাকরিটি আগের চাকরির মতো বা একই ধরনের পেশাগত শ্রেণির হতে হবে। চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও অনুসরণ করতে হয়।
কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে চাকরির প্রস্তাব এবং সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্রের শর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদনকারীদের স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদনপত্র, কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনপত্র এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি সঠিকভাবে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী সব যোগ্যতা পূরণ হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন