প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি আরবগামী ফ্লাইট একের পর এক বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি কর্মী। নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পারলে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে। এতে চাকরি হারানোরও আশঙ্কা করছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। তবে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের স্বার্থে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এখন পর্যন্ত সৌদিগামী ৬১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার যাত্রী ফ্লাইটের সময়সূচি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। রিয়াদের পাশাপাশি দাম্মামগামী ফ্লাইটের সময়সূচিতেও বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
ফেনী থেকে ঢাকায় এসেছেন মোহাম্মদ রাব্বি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুপুর ২টায় তাঁর দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল। বিমানবন্দরে এসে জানতে পারেন, ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে। তাঁর ভিসার মেয়াদ রয়েছে আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এর মধ্যে সৌদি আরবে যেতে না পারলে দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
রাব্বি বলেন, "ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কী হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দিতে না পারলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন তিনি।"
একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন ফেনী থেকে আসা শুক্কুর মিয়া। সকাল ৭টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল দাম্মাম গিয়ে কাজে যোগ দেওয়া। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাঁর চাকরিও।
রাব্বি ও শুক্কুর মিয়ার মতো ছুটিতে দেশে আসা অনেক কর্মী নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে ফিরতে পারছেন না। ফ্লাইট বাতিল ও সময়সূচির বিপর্যয়ে তাঁদের কর্মস্থলে ফেরার পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে। একদিকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ভয়, অন্যদিকে চাকরি হারানোর শঙ্কা। সব মিলিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদ উল আলম বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ঝুঁকি থাকলে ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। তবে যেসব কর্মী ফ্লাইট বাতিলের কারণে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে যেতে পারছেন না, তাঁদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা করা প্রয়োজন।"
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে সৌদিগামী ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের পাশাপাশি অন্যান্য ফ্লাইটের সময়সূচিতেও প্রভাব পড়ছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান গন্তব্য সৌদি আরব। দেশটিতে কর্মরত রয়েছেন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি। ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হতে দেরি হলে কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরা, ভিসার মেয়াদ এবং চাকরি ধরে রাখা নিয়ে জটিলতা আরও বাড়তে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন