প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : প্লেজিয়ারিজম (মেধাস্বত্ব চুরি) নিয়ে অভিযোগ উঠার পর সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেসন আর্ডে। মর্যাদাপূর্ণ এই ব্রিটিশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি অধ্যাপক আর্ডের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত শুরু করার সংবাদ জানানোর পরে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
২০১৩ সালে কেমব্রিজের সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হয়ে সংবাদ শিরোনামে আসেন জেসন আর্ডে। তবে সম্প্রতি তার পিএইচডি থিসিসের কিছু অংশে মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগের সম্মুখীন হতে হয় তাকে। তার একাডেমিক যোগ্যতার কিছু দিক সম্পর্কেও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, আর্ডে এবং তার সমর্থকরা জানান, এই বিশ্লেষণের পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে।
একটি অনলাইন পোস্ট করা চিঠিতে আর্ডে উল্লেখ করেন, এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় ছিল পদত্যাগ করা। তিনি বলেন, তার এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে অপবাদের স্বীকৃতি হিসেবে ভুলভাবে বোঝা যাতে না হয়।
আর্ডে লিখেছেন, "এটি এমন একজন মানুষের সিদ্ধান্ত, যিনি এতটাই কষ্ট সহ্য করেছেন যে, এর বেশি সহ্য করা আর কারো কাছ থেকে প্রত্যাশা করা যায় না।"
তিনি জানান, কেমব্রিজের 'সোসিওলজি অব এডুকেশন'-এর অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জেসাস কলেজের ফেলো পদ থেকে পদত্যাগ করছেন।
এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, তারা অধ্যাপক আর্ডের একাডেমিক যোগ্যতা এবং সম্মানসূচক নিয়োগের বিষয়ে নতুন কিছু তথ্যের ভিত্তিতে একটি তদন্ত শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি আরও জানায়, একাডেমিক অসদাচরণ সম্পর্কে কিছু অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে জুন মাসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আর্ডের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিল, এবং একে তার 'ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের একটি জঘন্য প্রচারণা' বলে উল্লেখ করেছিল। পাশাপাশি, তারা দাবি করেছিলেন, তার থিসিস এবং জার্নাল প্রকাশনার অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং জার্নাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে খারিজ করেছে।
কিন্তু, নতুন কী তথ্যের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে, তা প্রকাশ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি। অন্যদিকে জেসাস কলেজ আলাদাভাবে জানায় যে, তারা নিজস্ব তদন্ত শুরু করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক নাথান কফনাস অভিযোগ করেছেন, আর্ডের পিএইচডি থিসিসের একাধিক অংশ অন্যান্য কাজ থেকে হুবহু নকল করা হয়েছে।
বর্ণবাদের অভিযোগে ২০২৪ সালে কেমব্রিজের সাথে কফনাসের গবেষণামূলক সম্পর্ক বন্ধ হয়েছিল। আর্ডের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কেও কিছু দাবী বর্তমানে বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছে, যেমন তিনি একবার ৩৫ দিনে ৩০টি ম্যারাথন দৌড়েছিলেন এবং দাতব্য সংস্থার জন্য লাখ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিলেন।
গত শনিবার 'দ্য টাইমস' পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্ডে স্বীকার করেন, একাডেমিক ক্ষেত্রে কিছু 'ভুল' হয়েছিল। তবে তিনি আফসোস করে বলেন, 'তাকে ভুলভাবে একজন মিথ্যাবাদী, কাল্পনিক চরিত্র ও একাডেমিক প্রতারক হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে।'
আর্ডে আরও অভিযোগ করেন, তার পদ থেকে সরানোর প্রচারণা আসলে 'বর্ণবাদ দ্বারা অনুপ্রাণিত।'
ডানপন্থী সংবাদপত্র এবং সমালোচকরা এই কেলেঙ্কারির ঘটনায় সরব হয়েছেন। তারা আর্ডেকে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি (ডিইআই) নীতির 'পোস্টার বয়' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার সমর্থনে এবং কৃষ্ণাঙ্গদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ তুলে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের একটি খোলা চিঠিতে সাক্ষর হয়েছে, যার মধ্যে বিশিষ্ট কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষাবিদ এবং কেমব্রিজের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দও রয়েছেন।
এর আগে বুধবার প্রকাশনা সংস্থা 'সাইমন অ্যান্ড শুস্টার' জানায়, তারা আর্ডের জীবনকাহিনী প্রকাশ করতে পেরে 'গর্বিত'। চলতি মাসেই তাদের যুক্তরাজ্য শাখা থেকে আর্ডের স্মৃতিকথা 'গ্রেট অ্যান্ড আনফরচুনেট থিংস' প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকাশনা সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, এই স্মৃতিকথার বিষয়ে প্লেজিয়ারিজমের কোনো অভিযোগ ওঠেনি।
অটিজমে আক্রান্ত আর্ডে জানান, ৩৭ বয়সে কেমব্রিজের অধ্যাপক হওয়ার আগে তিনি ১১ বছর বয়স পর্যন্ত কথা বলতে পারতেন না এবং ১৮ বছর বয়সে এসে পড়তে ও লিখতে শেখেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'এটাই আমার কাজের শেষ নয়। এখন আমার 'সুস্থ হয়ে ওঠার এবং নিজের মাঝে ফিরে আসার জন্য সময় প্রয়োজন।'
আর্ডে দৃঢ়ভাবে জানান, 'আমি আবারও ফিরে আসব।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন