মোঃ শরীফ উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
১১:৩২ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেতা আসাদ খোকনকে হামলা করে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার পর এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, হামলার সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে উপজেলা বিএনপি।
এটি ঘটে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর রাজবাড়ি এলাকায়। আসাদ খোকন নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে আসাদ খোকন একটি দলীয় ভ্রমণ ও বনভোজনের অংশ হিসেবে হরিপুর রাজবাড়ি যান। তিনি সেখানে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন। এরপর, দুপুরের দিকে তিতাস নদীতে গোসল করার মুহূর্তে একদল লোক তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে, তাকে রাজবাড়ির একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং পরে নাসিরনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আহতের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের মতে, হামলার সময় আসাদ খোকনকে মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
আসাদ খোকন এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য ছিলেন। খবর অনুসারে, গত বছর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। এর আগে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
হামলার পেছনে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হলেও, নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে এম বশির উদ্দিন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি কিছু স্থানীয়দের সঙ্গে তর্কবিতর্কের পর এ মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন। এর সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়ার কারণে স্থানীয় কিছু মানুষ আসাদ খোকনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর ফলস্বরূপ তাকে মারধর করা হতে পারে। একদল লোক তাকে পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে চলে যায়। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
ওসি আরও জানান, আসাদ খোকনের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই এবং মারধরের ঘটনায় তিনি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। পরে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও অভিযোগ যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় সাশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং সময়সূচি পেছানোর কোনো সুযোগ নেই বলে জানানো হয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, সরকার ঘোষিত নির্ধারিত সময়েই ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এর আগে নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করে টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সরকারের ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এসএসসির টেস্ট বা নির্বাচনী পরীক্ষা আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পরীক্ষার ফলাফল ১৮ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করার কথা রয়েছে। এই কারণে, টেস্ট পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এসএসসির প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই মাস সময় পাবে।
তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার প্রস্তুতির সময় কিছুটা কমে আসছে। সাধারণত নির্বাচনী পরীক্ষা শেষে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীরা আড়াই থেকে তিন মাস সময় পেয়ে থাকে। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রি-টেস্ট পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের আগেই পাঠ্যসূচি শেষ করে অক্টোবরের মাঝামাঝি টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এমন পরিকল্পনা করছে।
তবে, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান সরকারি শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে, এসব প্রতিষ্ঠানে অক্টোবরের শেষ দিকে অথবা নভেম্বরের শুরুতে নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে। এতে এসএসসি পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীরা দুই মাসেরও কম সময় পেতে পারে।
এই অবস্থায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নির্বাচনী পরীক্ষার পর প্রস্তুতির সময় কমে গেলে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে, যা পরীক্ষার ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।
অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান মনে করেন, নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যসূচি শেষ করে টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের সমস্যা হবে না। তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময়মতো সিলেবাস শেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বলছেন, সব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে পাঠ্যসূচি শেষ করা সম্ভব নাও হতে পারে। বিশেষ করে শহরের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রস্তুতির সময় কমে গেলে শিক্ষার্থীদের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির শুরুতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। কিন্তু করোনা মহামারির পর থেকে সেই সূচি আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল এবং এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই।
অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেছেন, নানা কারণে প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে কয়েক মাস করে সময় হারিয়ে যাচ্ছে। এতে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরাও সেশনজটের কারণে সমস্যায় পড়ছে।
তার মতে, শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন এবং পরীক্ষার সময়সূচিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করতে হবে। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারির শুরুতে নেওয়ার উদ্যোগ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান সময় কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সের শীর্ষ আদালত ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার একটি বিল আটকে দিয়েছে। আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হওয়ার যুক্তিতে। এর ফলে জাতির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁন নতুন করে বিলটি লেখার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ফ্রান্সে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। বিলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ১৫ বছরের কম বয়সীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। পূর্বে থাকা অ্যাকাউন্টগুলোকে চার মাসের মধ্যে বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, প্ল্যাটফর্মগুলোকে বয়স যাচাইয়ের অনুমোদিত ব্যবস্থা রাখতে হবে।
তবে, ফ্রান্সের সাংবিধানিক পরিষদ জানিয়েছে, বিলে বয়স প্রমাণের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও এর শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। পরিষদ এ কথায় একমত যে, এটি নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁন আদালতের আপত্তিগুলো লক্ষ্য করে বিলটি সংশোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুকে নির্দেশ দিয়েছেন। ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে তিনি এই সংস্কার কার্যকর করতে চান।
গত জুলাইয়ে ফরাসি আইনপ্রণেতারা বিলটিকে অনুমোদন দেন। এর আগে, অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, টিকটকের মতো মাধ্যমগুলো নিষিদ্ধ করে, যা বিশ্বে প্রথম। চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কও তরুণদের জন্য সামাজিক মাধ্যম সীমিত করার একই ধরনের নিয়ম করছে বা করার কথা ভাবছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও শিশুদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে। গুগল, মেটার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুতর নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে বলছে, তাদের নিজস্ব ব্যবস্থা আছে শিশুদের সুরক্ষায়। তবে, তারা সরকারি নিয়ম মেনে চলবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ বীর মুক্তিযোদ্ধা কিংবদন্তি ‘কিলো ফ্লাইট’ কমান্ডার এবং সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ, বীর উত্তম, এসিএসসি (অব.)-এর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পালন করেছে।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিমান বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি এবং ইউনিটের মসজিদসমূহে বাদ জুমা তার জীবনী নিয়ে আলোচনা, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ, বীর উত্তম ১৯৪৪ সালের ১ আগস্ট তত্কালীন নোয়াখালী (বর্তমানে ফেনী) জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম নূরুল হুদা, এবং মাতার নাম মরহুমা আনকুরেন্নেছা বেগম। তিনি আরমানিটোলা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৬০ সালে পিএএফ পাবলিক স্কুল, সারগোদা, পাকিস্তান থেকে মেট্রিকুলেশন এবং ১৯৬২ সালে পিএএফ একাডেমি, রিসালপুর, পাকিস্তান থেকে এফএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৭৭ সালে তিনি এয়ার স্টাফ কলেজ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
উল্লেখ্য যে, তিনি ১৯৬০ সালের ১৯ আগস্ট তদানীন্তন পাকিস্তান বিমান বাহিনী একাডেমিতে যোগদান করেছিলেন এবং ১৯৬২ সালের ১ জুলাই জিডি (পি) শাখায় কমিশন লাভ করেন। এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ ছিলেন একজন চৌকস বৈমানিক। চাকরিকালীন সময়ে তিনি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন পেশাগত কোর্সে অংশগ্রহণ করেন এবং সফলতার সাথে তা সম্পন্ন করেন।
এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ, বীর উত্তম ১৯৭১ সালে দেশপ্রেমের অদম্য চেতনায় মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। অর্জন করেন লাল-সবুজের পতাকা। বীর মুক্তিযোদ্ধা ততোকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদের বীরত্বগাঁথা এ মহান ইতিহাসের এক অনুকরণীয় অধ্যায়।
তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের অদম্য ইচ্ছায় পাকিস্তান বিমান বাহিনী ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে ২ নং সেক্টরে (মতিনগর ও মেলাঘর) স্থলযুদ্ধে যোগদান করেন। পরে তিনি ১নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।
স্থলযুদ্ধে তিনি অদম্য সাহসের সাথে রামগড় থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত অসংখ্য দুঃসাহসিক অপারেশন পরিচালনা করেন। গেরিলা কমান্ডার হিসেবে তার পরিচালিত বড় একটি অভিযান ছিল চট্টগ্রামের মদুনাঘাটে বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন ধ্বংস ও চট্টগ্রাম এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা। এই স্থলযুদ্ধ চলাকালে তিনি ডান হাঁটুতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ সুস্থ হয়ে ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে নবগঠিত ‘কিলো ফ্লাইট’-এর অধিনায়কত্ব গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন বিমান বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করেন। তিনি পাইলট ইন কমান্ড হিসেবে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে অ্যালুয়েট-ওওও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল তেল ডিপো ধ্বংস করে প্রথম বিমান আক্রমণ অভিযানের সূচনা করেন।
তার চৌকষ অধিনায়কত্বে ‘কিলো ফ্লাইট’ স্বল্পসময়ের মধ্যে মোট ৫০টি দুঃসাহসিক বিমান অভিযান সাফল্যের সাথে পরিচালনা করে। এর মধ্যে তিনি ২৫টি অভিযানে প্রত্যক্ষভাবে অংশ গ্রহণ করেন। আকাশ হতে পরিচালিত এ সকল অভিযানসমূহ শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংসের পাশাপাশি তাদের মনোবল দুর্বল করে, যা আমাদের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ যুগপৎভাবে স্থলযুদ্ধে দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা, নবগঠিত বিমান বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান এবং আকাশযুদ্ধে অকুতোভয় আক্রমণ পরিচালনা করার মাধ্যমে দেশপ্রেমের এক অনন্য নজির স্থাপন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশাত্মবোধ ও সাহসিকতাপূর্ণ অবদানের জন্য তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
পরবর্তীতে, তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করেন এবং অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ পালন করেন। এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ ১৯৮১ সালের ২৩ জুলাই বিমান বাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং ১৯৮৭ সালের ২৩ জুলাই বর্ণাঢ্য কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় তার অনন্য ভূমিকা, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে একটি সুসংগঠিত ও কার্যকরী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা এবং পরবর্তীকালে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে দেশ গঠনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৮’-এ ভূষিত করে। তিনি ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর ১৪ দিন। তিনি স্ত্রী, ১ কন্যা, ১ পুত্র এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বিমান বাহিনী তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সে কর্মরত বাংলাদেশি সংবাদকর্মীদের সংগঠন 'বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, ফ্রান্স'-এর ১১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন রুপালী বাংলাদেশের ফ্রান্স প্রতিনিধি ও বাংলা টেলিগ্রামের সম্পাদক শাহ সুহেল আহমদ।
এবং সম্পাদক হয়েছেন দৈনিক আমাদের সময়ের ফ্রান্স প্রতিনিধি আশিক আহমেদ উল্লাস।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে প্যারিসের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত আত্মপ্রকাশ ও সাধারণ সভায় নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করেন ডিবিসি নিউজ ও চ্যানেল এস ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি ইকবাল মোহাম্মদ জাফর।
১১ সদস্যের কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হলেন- সহসভাপতি অবিরাম বাংলা ডটকমের উপসম্পাদক ক্রীড়া সাংবাদিক জান-ই-আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকরা বাংলা টিভি ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি আবু বাকার আল আমীন, কোষাধ্যক্ষ এশিয়া পোস্টের ফ্রান্স প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম রনি, প্রচার সম্পাদক বাংলা টেলিগ্রামের সিনিয়র রিপোর্টার তানভীর তালুকদার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক বাংলাদেশ টুডে ও সংবাদ প্রতিদিনের ফ্রান্স প্রতিনিধি নিপু বড়ুয়া, দপ্তর সম্পাদক ইউরো বাংলা টোয়েন্টিফোরের সম্পাদক মোহাম্মদ কায়সার আহমেদ।
এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাই টিভি ও দৈনিক মুক্তখবরের ফ্রান্স প্রতিনিধি বাদল পাল, ডিবিসি নিউজ ও চ্যানেল এস ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি ইকবাল মোহাম্মদ জাফর এবং দৈনিক যুগভেরীর ফ্রান্স প্রতিনিধি সাহাদ উদ্দিন।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী দুই বছরের জন্য নতুন কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। নবগঠিত কমিটির নেতারা জানান, ফ্রান্সে কর্মরত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে সংগঠনটি কাজ করবে। একই সঙ্গে ফ্রান্সে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সাফল্যের সংবাদ আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ