মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:০৫ এম
যশোরের অভয়নগরে, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিএনপির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩১৭-মহিলা আসন-১৭ সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ এই মতবিনিময় করেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় উপজেলা ও নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির আয়োজনে পরিষদের অডিটোরিয়ামে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান ফারাজী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ৮৮যশোর ৪-আসনের দায়িত্ব প্রাপ্ত ও ৩১৭-মহিলা আসন-১৭ আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ। বক্তব্য রাখেন, নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি আবু নঈম মোড়ল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী গোলাম হায়দার ডাবলু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মোল্যা, বিএনপি নেতা মশিয়ার রহমান মশি প্রমুখ। সভায় উপজেলা-নওয়াপাড়া পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপিসহ সকল সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, বেলা ১২ টার দিকে অভয়নগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদের সভাকক্ষে সুলতানা আহমেদ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএরপির সভাপতি মতিয়ার রহমান ফারাজী, নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি আবু নঈম মোড়ল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী গোলাম হায়দার ডাবলু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মোল্যা, অভয়নগর থানার ওসি (তদন্ত) শেখ লুৎফর রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলীমুর রাজীব, কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন, নওয়াপাড়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: শহিদুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষ অফিসার বিশ্বজিৎ সাহা, সমাজসেবা অফিসার মো: আব্দুল কাদেরসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিল করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে কালীগঞ্জ-জীবননগর মহাসড়কের কলেজ স্ট্যান্ড এলাকা থেকে রেজিস্ট্রি অফিস পর্যন্ত এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এতে ২০ থেকে ২৫ জন নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন। কোটচাঁদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ শাহীন মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মিছিলটি অল্প সময়ের মধ্যে শেষ করে অংশগ্রহণকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতারা। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগের বিষয়। পুলিশ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে না বলেই তারা একত্রিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এর মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।"
পৌর বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন বুলবুল সিডল মন্তব্য করেন, “শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ধরনের তৎপরতা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে।"
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় প্রকাশ্যে এলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতা-কর্মীদের এমন প্রকাশ্য কর্মসূচির বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। কোটচাঁদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, "সুযোগ বুঝে খুবই অল্প সময়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন ছেলে ঝটিকা মিছিল করেই গা ঢাকা দিয়েছে। এ ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের ১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাটি সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় সোলাদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয়।
সোলাদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুপদ মণ্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি। বিশেষ অতিথি হিসেবে সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি আহবায়ক ডাঃ আব্দুল মজিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম এনামুল হক এবং আসলাম পারভেজ।
সভায় শিক্ষকরা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি শিক্ষকদের বিভিন্ন বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং শিক্ষার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য প্রদান করেন শিক্ষক বিএম আক্তার হোসেন, অলোক মৃধা, পঙ্কজ কুমার বাইন, বিথীকা ইজারাদার, চন্দনা সরদার, অধীর কৃষ্ণ মণ্ডল, বিষ্ণুপদ সরকার, নাজমুল হক, মাসুদা খাতুনসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। সভায় সোলাদানা ইউনিয়নের ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ওপর একই সঙ্গে আরও দুই উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকায় তিন উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে একজন কর্মকর্তাকে। এতে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও তদারকিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নাগেশ্বরী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বর্তমানে তাঁর মূল দায়িত্বের পাশাপাশি রাজাহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
এর মধ্যে রাজাহাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। গত ২৫ মে পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন আব্দুর রব। তিনি বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পর পদটি শূন্য হয়। এরপর ২৯ মে থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহাতাব হোসেন। পরে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব পান কামরুল ইসলাম।
বর্তমানে নাগেশ্বরী উপজেলার নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজাহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলার শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও তাঁকে দেখভাল করতে হচ্ছে। ফলে তিন উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম, দাপ্তরিক কাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও মনিটরিংয়ের দায়িত্ব একজন কর্মকর্তার ওপর কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
এদিকে রাজাহাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, অফিস সহায়কসহ একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এতে জনবল সংকটও রয়েছে সেখানে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন কর্মকর্তার ওপর একাধিক উপজেলার দায়িত্ব থাকায় নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম তদারকি ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগ করা হলে তিন উপজেলার শিক্ষা প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোঃ আল হেলাল, নির্বাহী সম্পাদক:
উপ-সম্পাদকীয়: বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে, রেমিট্যান্সে শক্তিশালী প্রবাহ এসেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে এবং রপ্তানিতে পুনরুদ্ধারের কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে জ্বালানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, বিনিয়োগের স্থবিরতা, মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতার চাপ এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনীতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিকে নিছক ‘সংকট’ কিংবা ‘সাফল্য’ কোনো একক শব্দে ব্যাখ্যা করা যথেষ্ট নয়।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, আগস্টে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও কমে হয়েছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ। তবে একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ হয়েছে।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা জরুরি-মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; বরং দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে। গত কয়েক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যে উচ্চ স্তরে উঠে গেছে, সেখান থেকে মানুষের প্রকৃত স্বস্তি আসতে হলে মূল্যস্ফীতি আরও দীর্ঘ সময় ধরে কমতে হবে এবং একই সঙ্গে আয় বৃদ্ধির গতি বাড়াতে হবে। আগস্টে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির তুলনায় সামান্য কম। অর্থাৎ অনেক পরিবারের বাস্তব ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ এখনো রয়ে গেছে।
অর্থনীতির সবচেয়ে ইতিবাচক দিকগুলোর একটি হলো প্রবাসী আয়। ২০২৬ সালের আগস্টে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। এর আগে জুলাইয়েও এসেছিল ২ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।
রেমিট্যান্সের এই শক্তিশালী প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি তৈরি করেছে এবং রিজার্ভ পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে আগস্ট শেষে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার; আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের BPM6 পদ্ধতিতে তা ছিল প্রায় ৩২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার।
তবে এই স্বস্তির মাঝেও বৈদেশিক খাত পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে। ইতোমধ্যে ২১ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা করেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর প্রভাব পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও ভোক্তা পর্যায়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু পাম্পে সীমাবদ্ধ থাকে না। পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে কৃষি উৎপাদন, কারখানার পরিচালন ব্যয়, বাজারজাতকরণ—সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বাড়ে। শেষ পর্যন্ত এর একটি অংশ ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ে। তাই নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের সতর্ক থাকতে হবে।
অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক রপ্তানি। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৯ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাট, ওষুধ, চামড়া, প্রকৌশল পণ্য ও জুতাসহ কয়েকটি খাতেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
তবে রপ্তানির এই ইতিবাচক প্রবণতাকে টেকসই করতে হলে শুধু পোশাকনির্ভরতা কমিয়ে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে আরও জোর দিতে হবে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। জ্বালানি, শ্রম, পরিবহন ও অর্থায়ন ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে না পারলে রপ্তানি খাতের ওপর চাপ বাড়বে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাগুলোর একটি ব্যাংকিং খাত। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের চাপ, রাজস্ব ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। আইএমএফের হিসাবে, প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়িত না হলে প্রবৃদ্ধির ওপরও দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হতে পারে।
এখানেই অর্থনীতির মূল প্রশ্নটি সামনে আসে শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো বা মূল্যস্ফীতি সামান্য কমানোই কি যথেষ্ট? উত্তর হলো, না। একটি টেকসই অর্থনীতির জন্য প্রয়োজন উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ মানবসম্পদ, শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থা, কার্যকর রাজস্ব প্রশাসন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যেও অর্থনীতির মিশ্র চিত্র দেখা যায়। FY26-এ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ০ দশমিক ১৭ শতাংশ, যেখানে আমদানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। একই সময়ে রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী হয়েছে।
অর্থাৎ অর্থনীতিতে এখন সবচেয়ে প্রয়োজন সামষ্টিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে বাস্তব অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন। ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ না বাড়লে, শিল্পের উৎপাদন না বাড়লে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে কেবল মুদ্রা ও রিজার্ভের সূচকে উন্নতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। প্রথমত, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সরবরাহব্যবস্থা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জ্বালানি ও আমদানি ব্যয়ের অভিঘাত যাতে অস্বাভাবিকভাবে ভোক্তার ওপর না পড়ে, সে জন্য লক্ষ্যভিত্তিক নীতি গ্রহণ করতে হবে। তৃতীয়ত, ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনা মোকাবিলা করে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। চতুর্থত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে হবে। পঞ্চমত, রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব করতে হবে।
সর্বোপরি, অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো মানুষের জীবনযাত্রা। একজন নিম্নআয়ের মানুষ বাজারে গিয়ে যদি আগের তুলনায় কম পণ্য কিনতে পারেন, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যদি উচ্চ ব্যয়ের কারণে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে না পারে কিংবা একজন তরুণ যদি উপযুক্ত কর্মসংস্থান না পায়-তাহলে কাগজে-কলমে কিছু সূচকের উন্নতি সাধারণ মানুষের কাছে পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক স্বস্তি হিসেবে ধরা দেবে না।
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা রাখে-রেমিট্যান্স, রিজার্ভ ও রপ্তানির সাম্প্রতিক কিছু ইতিবাচক তথ্য তার প্রমাণ। কিন্তু একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ব্যয়, ব্যাংকিং খাত, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জও বাস্তব। তাই এখন প্রয়োজন আতঙ্ক নয়, আবার আত্মতুষ্টিও নয়; প্রয়োজন সঠিক তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত, জবাবদিহিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের ধারাবাহিকতা।
অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়—ব্যাংক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, ভোক্তা, শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্য নির্ভর করবে আমরা সাময়িক স্বস্তিকে কতটা টেকসই পুনরুদ্ধারে রূপ দিতে পারি তার ওপর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ