প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০১৭ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন কুমিল্লার দেবীদ্বারের খোরশেদ আলম। বুকভরা স্বপ্ন ও পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। বিডিআর বিদ্রোহের পর ২০০৯ সালে চাকরি হারিয়ে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন এবং একটি কওমি মাদ্রাসাও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবে আততায়ীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়ে কফিনবন্দী হয়ে দেশে ফিরতে হলো তাকে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের ভিরাল্লা গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়। নিহত খোরশেদ আলম ওই গ্রামের হাজী আনছর আলীর বাড়ির মৃত হাজী নুরুল ইসলামের ছেলে।
পরিবার ও স্বজনরা জানান, ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের পর চাকরিচ্যুত হন খোরশেদ। সে সময় তিনি খাগড়াছড়িতে কর্মরত ছিলেন। চাকরি হারানোর পাশাপাশি দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগও করতে হয় তাকে। পরে জীবিকার তাগিদে ২০১৭ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান।
সৌদি আরবের আভা শহরে প্রথমে একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে জমানো অর্থে প্রতিষ্ঠা করেন একটি লন্ড্রির দোকান। ব্যবসার আয় থেকে নিজ এলাকায় একটি কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মাদ্রাসার শিক্ষা উপকরণসহ যাবতীয় ব্যয়ও তিনি বহন করতেন। তার স্বপ্ন ছিল দ্বীনি শিক্ষার প্রসার ঘটানো।
স্বজনদের ভাষ্য, গত ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে দোকানের বকেয়া টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে তার বাংলাদেশি এক কর্মচারীর সঙ্গে সুদানের দুই নাগরিকের বিরোধ ও মারামারি হয়। খবর পেয়ে বাসা থেকে দোকানে গিয়ে বিরোধ থামানোর চেষ্টা করেন খোরশেদ। এ সময় সুদানি দুই ব্যক্তি তার বুকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৌদি পুলিশ অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে আটক করে। বর্তমানে দেশটিতে হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার দেশে পৌঁছায় খোরশেদের মরদেহ। লাশবাহী গাড়ি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। প্রতিবেশীদের চোখের পানিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকার পরিবেশ।
নিহতের বড় মেয়ের জামাতা নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমার শ্বশুরের কোনো ছেলে সন্তান নেই। আমার স্ত্রীসহ চার মেয়ে। তারা এখন বাবাকে হারিয়ে নিঃস্ব। বিডিআর বিদ্রোহের কারণে তিনি বিনাদোষে চাকরি হারিয়েছিলেন। সরকার থেকেও কোনো সহযোগিতা পাননি। আমরা চাই, তার চাকরির পেনশনের টাকা দিয়ে সরকার যেন পরিবারটিকে সহযোগিতা করে।’
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘খোরশেদ আলমের মৃত্যুর খবর তিনি জানতে পেরেছেন।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন