প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে শূন্য লাইনে ঘটে যাওয়া একটি রহস্যজনক বিস্ফোরণে মর্মান্তিকভাবে প্রান হারিয়েছে সতনাই তংচঙ্গা (১১) নামের এক শিশু। মঙ্গলবার (২জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি এলাকায় ৪১ নম্বর সীমান্ত পিলার সংলগ্ন শূন্য লাইনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সতনাই ছিল বাকী হ্লা তংক্গার একমাত্র সন্তান, যিনি বাইশ ফাঁড়ি পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। পরিবারের সাথে জুম চাষের কাজে সীমান্তবর্তী এলাকায় গিয়ে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার শিকার হয় সে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে সতনাই তার পিতার সাথে জুম চাষের কাজে যায়। তার বাবা জমিতে কাজ করছিলেন এবং শিশুটি আশপাশে খেলাধুলা করছিল।
একপর্যায়ে শূন্য লাইনের কাছাকাছি পড়ে থাকা একটি বিস্ফোরক সদৃশ বস্তুর সংস্পর্শে গেলে প্রচণ্ড শব্দের সাথে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় শিশুটির।
বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সতনাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
ঘটনার পর পুরো সীমান্ত এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সীমান্তবর্তী জনপদের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অজানা বস্তু পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এসব বিষয়ে সচেতনতার অভাব এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে।
৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম কায়রুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘুমধুমের বাইশ ফাঁড়ি সীমান্তের ৪১ নম্বর পিলার সংলগ্ন শূন্য লাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতের পরিবার প্রায় পাঁচ বছর আগে বাইশ ফাঁড়ি পশ্চিমপাড়ার খাস জমিতে বসতি স্থাপন করে। দারিদ্র্যের মোকাবেলা করার এই পরিবারটির ছিলেন একমাত্র সন্তান সতনাই। তার মৃত্যুর সংবাদে পরিবারে ঘোর অমানিশা নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল সীমান্ত এলাকায় বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু শনাক্ত করতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তারা সীমান্তবর্তী জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন