প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কাজের অনিয়মের কারণে শুক্রবার আমতলী উপজেলার আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের কালিবাড়ী এলাকার অন্তত দুই’শ মিটার সড়ক চালিতাবুনিয়া খালে ধসে পড়েছে। এর ফলে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ভোগান্তিতে পড়ে রয়েছেন ওই সড়ক চলাচলরত অন্তত কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের কার্যাদেশ অনুসারে কাজ না করা, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার এবং বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তাই তারা দ্রুত তদন্ত করে ঠিকাদার ও তদারকি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাচ্ছেন। আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আখকারুজ্জামান বাদল খাঁন সড়ক ধসে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সড়ক খালে ধসে পড়েছে, আপনারা যা পারেন লিখে দিন। দেখি এতে কি হয়? জানা গেছে, আমতলী-গাজীপুর ১৫ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে আমতলী কালিবাড়ী থেকে তালুকদার বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ ও পুর্ননির্মাণে দরপত্র আহবান করেছে বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশল বিভাগ। পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই কাজটি পায় রাজশাহীর বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ওই কাজটি সাব কন্টাক্ট নিয়েছেন আমতলী উপজেলা চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আখতারুজ্জামান বাদল খাঁন। তৎকালীন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার বাদল খাঁন সড়কের কাজ না করে ফেলে রাখেন। শেখ হাসিনার পতনের পর চাপের মুখে তিনি সড়কের কাজ শুরু করেন। কাজের শুরুতেই এ সড়ক নির্মাণে বেশ কিছু অনিয়মের আশ্রয় নেন ঠিকাদার বাদল খাঁন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে এবং সম্প্রসারণের কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ করা হয়নি ঠিকাদার দ্বারা। এ নিয়ে স্থানীয়রা বেশ কয়েকবার বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান ও আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইদ্রিস আলী কাছে অভিযোগ দিলেও তারা তা গুরুত্ব সহকারে নেননি, এমন অভিযোগ স্থানীয় সাইফুল ইসলাম এবং বাবুলের। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, ঠিকাদার বাদল খাঁনের কাজে অনিয়মের কারণে কাজ শেষ হতে না হতেই সড়কের বিভিন্ন জায়গা ধসে পড়েছে। শনিবার সকালে কালিবাড়ী এলাকার ওই সড়কের অর্ধেক অন্তত দুই’শ মিটার ধসে চালিতাবুনিয়া খালে পড়ে যায় এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছ সড়কে পড়ে যায়। ফলে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। খবর পেয়ে বরগুনা এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান। শনিবার আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের কালীবাড়ী ও পাতাকাটা নামক স্থানগুলোতে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সড়কের দুই স্থানে অন্তত দুইশ মিটার সড়ক ধসে খালের মধ্যে পড়ে গেছে। কাজ শেষ হতে না হতেই সড়ক ধসে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কাজের মান নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সড়ক খালে ধসে পড়ায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। আমতলী উপজেলা যুবদল যুগ্ম আহবায়ক মোঃ মেহেদী জামান রাকিব বলেন, ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও বেশ কিছু অনিয়ম করায় অন্তত দুই’শ মিটার সড়ক চালিতাবুনিয়া খালে ধসে পড়েছে। তিনি বলেন, ঠিকাদারের কাজের অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় সকল বিভাগকে বেশ কয়েকবার জানানো হয়েছে, কিন্তু তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি দ্রুত তদন্ত করে কাজের অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান। আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইদ্রিস আলী বলেন, সড়ক খালে ধসে যাওয়ার বিষয়ে তদন্ত করছি। সড়কের ধসে যাওয়ার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিশেষজ্ঞ টিম পরিদর্শনে আসবে। বরগুনা এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি। সড়ক ধসে খালে পড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে চেষ্টা করছি। তিনি আরো বলেন, এখানে ঠিকাদারের অনিয়মের বিষয়টিও কঠোরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন