০৪:৪৬ এম
উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের শক্তির পরিচয় প্রকাশ করেছে পর্তুগাল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জোড়া গোল এবং নুনো মেন্দেস-রাফায়েল লিয়াওদের আক্রমণাত্মক ফুটবলে পর্তুগিজ 'নাবিগেটরস'রা এখন ধরা দিচ্ছে। তবে, এই বড় জয়ের পরও ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, কোচ রবার্তো মার্তিনেজের এই দলটি বিশ্বকাপ জিততে সক্ষম হবে, যদি এবং কেবল যদি তারা মাঠের কিছু নির্দিষ্ট দুর্বলতা ও ট্যাকটিক্যাল ঘাটতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারে।
উজবেকিস্তানের মত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ৫-০ স্কোরলাইন দেখালেও, ম্যাচের ভেতরের কিছু চিত্র পর্তুগালের জন্য বড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১. মাঝমাঠের পজিশনাল ভুল ও বল হারানোর প্রবণতা: ম্যাচের প্রথমার্ধে পর্তুগালের মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের মধ্যে পজিশনাল কিছু ভুল স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষত, জোয়াও ক্যানসেলো উজবেকের উইঙ্গার আব্বোসবিক ফায়েজুল্লাহয়েভের কাছে বল হারিয়ে ফেলেছিলেন। ক্যানসেলোর এই মারাত্মক ভুলের কারণে ২৯ মিনিটে উজবেকিস্তানের আজিজ গানিয়েভ ২৫ গজ দূর থেকে পর্তুগালের জালে বল জড়িয়ে দিয়েছিলেন। যদিও বিল্ড-আপে ফাউল থাকায় ভিএআর (VAR) এই গোলটি বাতিল করে দেয়, তবে নকআউট পর্বে ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের মতো দল এই ধরনের ভুলের শাস্তি দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই
২. রক্ষণভাগের অনর্থক ফাউল ও কার্ডের মহড়া: ম্যাচ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকার পরও পর্তুগিজ ডিফেন্ডারদের মধ্যে অনর্থক ফাউল করার প্রবণতা দেখা গেছে। ৬৮ মিনিটে রেনাতো ভেইগা যেভাবে আজিজ গানিয়েভকে বডি-চেক করে হলুদ কার্ড দেখলেন, তা ছিল সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। আগামী টুর্নামেন্টের পরের ম্যাচগুলোতে এমন কার্ডের খেসারত পুরো দলকে দিতে হতে পারে।
৩. বল পজিশন ও অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি: ম্যাচের একটি দীর্ঘ সময় (বিশেষ করে প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের পর এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে) পর্তুগালকে কিছুটা ধীরগতির মনে হয়েছে। উজবেকিস্তান যখনই কিছুটা হাই-প্রেস করার চেষ্টা করেছে, পর্তুগিজ ডিফেন্ডাররা কিছুটা প্যানিকড হয়ে ব্যাক-পাস বা লং-বলের সাহায্য নিয়েছেন। ৫-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতলেও আক্রমণভাগে আরও ক্লিনিক্যাল হতে এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ পুরো ৯০ মিনিট ধরে রাখতে হবে।
পর্তুগালের স্কোয়াডের গভীরতা অসাধারণ। বেঞ্চ থেকে রাফায়েল লিয়াওরা এসে যেভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন, তা কোনো কোচের জন্য একটি স্বপ্নের মতো। কিন্তু সোনালী ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখতে হলে মার্তিনেজের দলকে নিচের তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে:
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে এই জয়টি নিশ্চিতভাবে পর্তুগালকে আত্মবিশ্বাস দেবে। তবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে হলে রবার্তো মার্তিনেজের দলকে আজ পাওয়া এই 'ওয়ার্নিং সাইন' বা সতর্কবার্তাগুলোকে অবহেলা করার একটিও সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন