প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে দাম বাড়ানোর বিষয়টি সম্পর্কে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, গ্রাহক এবং অংশীজনের মতামত নিয়ে সুপারিশ দিতে সংস্থাটি একটি চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।
কমিটির সুপারিশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। কিন্তু এ প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্নভাবে এর তীব্র বিরোধিতা করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।
রবিবার (২ আগস্ট) সংগঠনটি বলেছে, অদক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও অনিয়ম রোধ করা গেলে পানির মূল্যবৃদ্ধির প্রয়োজন হবে না। দাম বাড়ানোর আগে তারা পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১ আগস্ট) চট্টগ্রাম ওয়াসার পরিচালনা পর্ষদের সভায় সংস্থাটির বাণিজ্যিক ও রাজস্ব বিভাগ আবাসিক ও বাণিজ্যিক—উভয় শ্রেণির গ্রাহকের জন্য পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব উপস্থাপন করে। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে প্রতি মাসে ওয়াসার বিদ্যুৎ বিল আগের তুলনায় প্রায় দুই কোটি টাকা বেশি আসছে। এর পাশাপাশি ওয়াসার আইন অনুসারে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত পানির দাম সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে। এজন্য মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এখনো বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এই প্রসঙ্গে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ সম্পর্কে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ওয়াসার পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর একটি প্রস্তাব এসেছে। এ বিষয়ে বোর্ড সভায় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া না নিয়ে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ওয়াসার গ্রাহক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সুপারিশ দেবে। এরপর সেই সুপারিশ আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব।
মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই পানির দাম বাড়ানো হবে। আইন অনুযায়ী ৫ শতাংশ পর্যন্ত পানির দাম বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসার আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রতি ১ হাজার লিটার পানির দাম ১৮ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য ৩৭ টাকা। সংস্থাটির সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট গ্রাহক সংযোগ বর্তমানে রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫১৯টি।
আবাসিক ও বাণিজ্যিক উভয় শ্রেণির গ্রাহকের পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আচরণ হিসাবে মন্তব্য করেছেন ক্যাব নেতারা।
নেতারা বিবৃতিতে বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহর অদক্ষ প্রশাসন, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, আত্মীয়করণ ও গ্রাহকস্বার্থ উপেক্ষার কারণে প্রতিষ্ঠার ৬৩ বছরেও চট্টগ্রাম ওয়াসা নগরবাসীর চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে তারা গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে এ প্রস্তাব প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারুসহ ক্যাবের নেতারা বিবৃতিতে সই করেছেন।
নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যখন জনবান্ধব কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ চলছে, তখন একটি মহল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ানোর জন্য নানা ফর্মুলা হাজির করছে। সবজি, চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য এবং বিভিন্ন সেবা-খাতের মূল্যবৃদ্ধিতে যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, তখন ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে ওয়াসার পানির দাম বৃদ্ধি মানুষের জীবনযাত্রাকে আরো অসহনীয় করে তুলবে। এটি জুলাই চেতনার পরিপন্থী এবং বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিরও বরখেলাপ। তাই গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে প্রথম বোর্ড সভাতেই পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন তারা।
বিবৃতিতে নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আট দফায় ১৬ বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া চট্টগ্রাম ওয়াসার সাবেক বিতর্কিত এমডি নানা কৌশলে পদে বহাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে অনিয়ম-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য और নিজের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন। তার সময়ে ১৪ বারের বেশি পানির দাম বাড়িয়ে চট্টগ্রামবাসীর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো হয়েছে। এখনো শহরের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ওয়াসার পানি পায় না। অনেক এলাকায় ময়লা এবং লবণাক্ত পানি এবং ভূতুড়ে বিলের যন্ত্রণায় ভুগতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ওয়াসার বাস্তবায়িত এবং চলমান বিভিন্ন প্রকল্পেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। নিজের আত্মীয়স্বজনকে পদোন্নতি দেওয়া, এমনকি নিজের মেয়ের প্রতিষ্ঠানকে স্যুয়ারেজ প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়ার মতো নানা অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম ওয়াসায় বৈধ ভোক্তা প্রতিনিধি মনোনয়নের বিধানও কর্তৃপক্ষ মানেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন