প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত বহুল আলোচিত প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’ ইতালির সিনেমা হলগুলোতে মুক্তির প্রথম দুই দিনে বক্স অফিসের শীর্ষস্থান দখল করেছে। ইতালীয় বক্স অফিস ট্র্যাকার সিলাইনেটেল-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত সিনেমাটির টিকিট বিক্রি ১১ লাখ ইউরো (১.২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে।
প্রথম দিনেই সোমবার ছবিটি ৪,৫১,৮৭২ ইউরো আয় করে এবং ৬০,৪৬৭ জন দর্শককে আকৃষ্ট করে বক্স অফিসের ১ নম্বর স্থানে উঠে আসে। ওই দিন পুনরায় মুক্তি পাওয়া ব্লকবাস্টার ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর আয়কে (১,৭৯ ,৬১২ ইউরো) দ্বিগুণেরও বেশি ব্যবধানে পেছনে ফেলে দেয় এটি।
মঙ্গলবারও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলচ্চিত্রটি শীর্ষে ছিল। এদিন এটি ৬,২৩,১৬৪ ইউরো আয় করে এবং ৮৩ হাজারের বেশি দর্শক সিনেমাটি উপভোগ করেন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ছবিটির মোট আয় ১০,৯৬,৮১৬ ইউরো এবং মোট দর্শকসংখ্যা ১,৪৬,৭২০ জনে পৌঁছেছে।
প্রাথমিকভাবে ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের বিশেষ প্রদর্শনী হিসেবে ইতালিজুড়ে ৫১৫টি সিনেমা হলে ‘নাজা’ মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে বেশিরভাগ হলের টিকিট পুরোপুরি বিক্রি হয়ে যায় (হাউসফুল)। দর্শকদের অভূতপূর্ব চাহিদার কারণে নির্ধারিত সময়ের পরও সিনেমাটির প্রদর্শনী অব্যাহত রয়েছে।
অস্কারজয়ী ইসরায়েলি নির্মাতা উভাল আব্রাহাম এবং রেচেল জোর পরিচালিত এই প্রামাণ্যচিত্রে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা সদস্যদের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে গাজায় ফিলিস্তিনি সাধারণ নাগরিকদের হত্যার নির্মম চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
তেল আবিবের বিভিন্ন ভবনের ছাদে তিন বছর ধরে অত্যন্ত গোপনে ধারণ করা এই প্রামাণ্যচিত্রে ২৪ জন ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে ডিজিটালি চেহারা ও কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করা হয়েছে।
ছবিতে উপস্থিত ইসরায়েলি সামরিক সদস্যরা বর্ণনা করেছেন যে, কীভাবে সম্ভাব্য সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণ, ট্র্যাকিং ও বিমান হামলা চালানোর পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। কেউ কেউ জানান, সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত আবাসিক এলাকাগুলোতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা এবং গাজায় ত্রাণ বিতরণের সময় ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলিবর্ষণের মতো মর্মান্তিক ঘটনার তারা প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।
চলচ্চিত্রটির নাম ‘নাজা’ রাখা হয়েছে, যা ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা 'আমান'-এর ব্যবহৃত একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। কোনো বিমান হামলায় কতজন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক নিহত হতে পারেন, তা বোঝাতে তারা এই কোড শব্দটি ব্যবহার করত।
সম্প্রতি ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর দর্শকরা টানা ২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। পরবর্তীতে চলচ্চিত্রটি ঐতিহাসিক 'স্পেশাল জুরি প্রাইজ' লাভ করে।
তবে এই প্রামাণ্যচিত্রটি ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের চরম ক্ষোভের মুখে পড়েছে। চলচিত্রটি প্রদর্শনের পর চলতি মাসের শুরুর দিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, ইসরায়েলি সৈন্যদের "মানহানি"কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন