প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদকাসক্তি বেড়ে যাওয়ার কারণে নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর পর ছেলের পাঁচ বছরের জেল চাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অসহায় বাবা, জমিজমা বিক্রি করে মাদকাসক্ত ছেলেকে চিকিৎসার জন্য নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর পর তার অবস্থার অবনতি হয়েছে। ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর তিনি পুলিশকে অনুরোধ করেছেন যে, তার ছেলেকে টানা পাঁচ বছর জেলে রাখা হোক।
পুলিশ ও দুলাল মিয়া জানান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের নৈদারখামার গ্রামের বাসিন্দা মো. সোহাগ মিয়া (২৮) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তার বাবা, দুলাল মিয়া, ছেলেকে মাদক থেকে ফিরিয়ে আনতে নিজের জমিজমা বিক্রি করে দুবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তার ছেলে পূর্বের চেয়ে বেশি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ইয়াবাসহ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
এই ঘটনার পর রবিবার সকালে দুলাল মিয়া সুনামগঞ্জ সদর থানায় এসে পুলিশকে তার ছেলের মাদকাসক্তির পুরো কাহিনী জানিয়ে দেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, জমিজমা বিক্রি করে দুবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর পর তার ছেলে আরো বেশি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। তিনি পুলিশের কাছে অনুরোধ করেন যে, তার ছেলেকে যেন পাঁচ বছর জেলে রাখা হয়।
ভুক্তভোগী বাবা দুলাল মিয়া জানান, তার ছেলে মাদকাসক্ত হওয়ার পর কোনো কথা শোনে না।
কাজকর্ম কিছুই করে না। যখন সংশোধনের কথা বলেন, তখন মারধর করে। ইতিমধ্যে জমি বিক্রি করে দুবার তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়েও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। বরং উল্টো আরো মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। তাই তিনি থানায় এসে পুলিশকে বলেছেন যে, তাকে পাঁচ বছর জেলে রাখতে হবে।
এতে যদি তার ছেলের সংশোধন হয়। সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ রতন শেখ বলেন, ‘বৃদ্ধ বাবা তার মাদকাসক্ত সন্তানের অত্যাচারে অতীষ্ঠ। আমরা তাকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর তিনি থানায় এসে আমাদের অভিনন্দন জানিয়ে ছেলেকে পাঁচ বছর জেলে রাখার অনুরোধ করেছেন’। তিনি সন্তানদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে পরিবার থেকেই যুদ্ধ করার আহ্বান জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন