প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অবশেষে বাকেরগঞ্জের সাংবাদিক দানিসুর রহমান লিমন জামিন পান পরিকল্পিত হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায়। আদালতে মামলার বাদী নিজেই উপস্থিত হয়ে পুরো ঘটনার পেছনে ভুল বোঝাবুঝির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং আপোষ-মীমাংসার স্বাক্ষরিত নথি আদালতে জমা দেন। বাদীর বক্তব্য ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আদালত সাংবাদিক লিমনের জামিন মঞ্জুর করেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একজন সংবাদকর্মী যখন দীর্ঘদিন ধরে এলাকার দুর্নীতি, অনিয়ম ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের বিরাগভাজন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়ে থাকে। লিমনের ক্ষেত্রেও কি তেমন কিছু ঘটেছে—এ প্রশ্নটি বর্তমানে জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়; বরং সমাজের আয়না হিসেবে সত্যকে তুলে ধরা একজন সংবাদকর্মীর দায়িত্ব। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, সত্য প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের নানা ধরনের চাপ, হুমকি, হয়রানি কিংবা মামলার মুখোমুখি হতে হয়। লিমনের সাম্প্রতিক ঘটনা সেই বাস্তবতারই আরেকটি আলোচিত উদাহরণ বলে অনেকেই মনে করছেন।
আদালতের জামিনাদেশটি কেবল একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত স্বস্তি নয়, এটি ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থাকে আরও শক্তিশালী করে। তবে প্রশ্ন রয়ে যায়—যদি বাদী নিজেই ভুল বোঝাবুঝির কথা স্বীকার করেন, তাহলে একজন সংবাদকর্মীকে কেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলো?
সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কলম ধরা মানুষদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের কর্তব্য। সাংবাদিকদের বিপদে সহযোগিতা করতে না পারলেও অন্তত তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও অযাচিত হয়রানির অংশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
কারণ, স্বাধীন ও নির্ভীক সাংবাদিকতা টিকে থাকলে সমাজে জবাবদিহিতা টিকে থাকে; আর জবাবদিহিতা থাকলেই গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের ভিত্তি শক্তিশালী হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন