প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায়, তারাপীঠে আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার ভোরে মন্দির-সংলগ্ন পাঁচতলা ‘বিদেশিনী’ হোটেলে এই আগুন লাগে। এই ঘটনার ফলে আহত হয়েছেন অনেকে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে, মঙ্গলবার তারাপীঠের ১৫টি আবাসিক হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে পাচঁজন মেঘালয়ের বাসিন্দা রয়েছেন। অপর চারজনের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায়। আগুনের ঘটনায় মোট ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের পরিস্থিতি গুরুতর।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ‘বিদেশিনী’ হোটেলের মালিকের ছেলে সোমবার গ্রেফতার হয়। পরে মঙ্গলবার পুলিশ হোটেলটির মালিক প্রবীর কুমার পালকেও গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শ্রাবণ মাস উপলক্ষে শিবপূজা ও তারাপীঠের মা তারা মন্দিরে পূজা দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী সেখানে জড়ো হন। তাঁদের অনেকেই স্থানীয় আবাসিক হোটেলগুলোতে অবস্থান করছিলেন।
সোমবার ভোর ৪টার দিকে ‘বিদেশিনী’ হোটেলে আচমকা চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ধোঁয়া ও আগুনে পাঁচতলা ভবনটি ঢেকে যায়।
হোটেলের সামনের অংশে অবস্থিত রেস্তোরাঁয় আগুন ছড়িয়ে পড়ায়, সেদিক দিয়ে বের হওয়ার সুযোগ ছিল না। অন্যদিকে, ভবনের পেছনের জরুরি বাহির্গমনের দরজাটি তালাবদ্ধ থাকায় অনেকেই ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন এবং ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান।
অগ্নিকাণ্ডের সময়ে জীবন রক্ষা করতে কয়েকজন হোটেলের ব্যালকনি থেকে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এই ঘটনার পর মঙ্গলবার পুকুরটিতেও তল্লাশি চালানো হয় সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের দ্বারা।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া ১৫টি আবাসিক হোটেলকে এর আগেও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা গঠনের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে যে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা গড়িমসি করেছে। পরিদর্শনে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ার পর, এসব হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে, ‘বিদেশিনী’ হোটেলে আগুন লাগার কারণ নির্ধারণ করার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দমকল ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের কারণের পাশাপাশি হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি বাহির্গমন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য হিন্দু
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন