প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
৫৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে মুক্তিযুদ্ধের একটি গুলি পিঠে বহন করে চলেছিলেন মন্নাস আলী। অবশেষে চিকিৎসকদের দক্ষতার মাধ্যমে তার পিঠ থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর একটি বুলেট সফল অপারেশনের মাধ্যমে বের করা হয়েছে। ৭৫ বছর বয়সী এই মুক্তিযোদ্ধা এতদিন তীব্র দারিদ্র্যের কারণে অস্ত্রোপচার করাতে পারেননি।
গতকাল শনিবার নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মন্নাস আলীর অপারেশন সম্পন্ন হয়। চিকিৎসক, স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা জানান, ৫৫ বছর ধরে তিনি এই গুলিটি পিঠে নিয়ে যন্ত্রণা সহ্য করে এসেছিলেন। অবশেষে চিকিৎসকদের আন্তরিকতার কারণে তার কষ্টের অবসান হয়েছে।
দুই দিন আগে পিঠে টানা ব্যথায় তিনি হাসপাতালে আসলে এক্সরে করার পর একটি বস্তু আটকে থাকার জন্য কোনোকিছুর প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে দ্রুত অপারেশন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দরিদ্র পরিবার হওয়ায় सरकारी হাসপাতালে তার অপারেশন করানো হয়।
মল্লা আলীর পুত্র আবুল হোসেন বলেন, ‘বাবা প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। অর্থ সংকটের কারণে আমরা তাকে চিকিৎসা করাতে পারিনি। বাবাও গুলি বের করতে ভয় পেতেন। তবে সবার সহযোগিতায় গুলিটি এখন বের করা হয়েছে।’
দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান জানান, স্থানীয় মোশারফ নামের একজন মন্নাস আলীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায়, তার দেহে গুলি ছিল। তারপর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সফলভাবে গুলিটি অপসারণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘দারিদ্র্যের কারণে এতদিন তিনি চিকিৎসা করতে পারেননি। আমরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারটি করেছি। উদ্ধার হওয়া গুলির কথা পুলিশকে জানানো হয়েছে। মন্নাস আলীকে আরও কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন