প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অস্ত্র রপ্তানিতে ভারতের গতি মুগ্ধকর ধরে নিচ্ছে, যা ১২ বছরে বেড়েছে ৫৫ গুন।
এক সময়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে ভারত শীর্ষে ছিল। তবে এখনো তাদের অবস্থান ঠিক ওপরের দিকে রয়েছে।
এখন ভারত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বৈশ্বিক বাজারে খেলা ঘুরিয়ে দিতে চাইছে। চমক জাগানো সব তথ্য এই স্থানান্তর নিশ্চিত করছে, ভারত সঠিক পথে এগোচ্ছে।
বর্তমানে ভারতের অবস্থান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ১৯তম। ভারত এখন বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে উচ্চপ্রযুক্তির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করছে।
বড় অস্ত্র আমদানিকারক দেশ থেকে উদীয়মান রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তরের এই গল্পটি সত্যিই চমকপ্রদ। এই সাফল্য পাবলিক-প্রাইভেট যৌথ উদ্যোগের ফল।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি আয় রেকর্ড ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপি; যা তাদের জন্য একটি বিশাল অর্জন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ২৩ হাজার ৬২২ কোটি রুপি।
এতে দেখা যাচ্ছে, প্রতিরক্ষা রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে রপ্তানি আয় তিন গুন বেড়েছে। এক দশক আগে, মানে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ছিল মাত্র ৬৮৬ কোটি রুপি, আর ১২ বছরে এটি ৫৫ গুন বেড়েছে, শতাংশের হিসেবে ৫ হাজার ৫০০ ভাগ! এটা সত্যিই অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, একযুগে প্রতিরক্ষা রপ্তানি খাতে যুগবদল ঘটেছে। প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ভারতের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হলো প্রতিরক্ষা।
প্রতিরক্ষা রপ্তানি বৃদ্ধির পেছনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও ভূমিকা রেখেছে। এই রেকর্ড রপ্তানিতে ভারত সরকারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর অবদান হলো ২১ হাজার ৭১ কোটি রুপি, আর বেসরকারি খাতের অবদান ১৭ হাজার ৩৫৩ কোটি রুপি। রপ্তানির পাশাপাশি উৎপাদনে রেকর্ড হয়েছে। গত অর্থবছরে ভারতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ১.৭৮ লাখ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। ভারত সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৫০ হাজার কোটি রুপিতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। প্রবৃদ্ধির এই ধারা যদি বজায় রাখা যায়, তাহলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
একসময় ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণ ছিল হাতে গোনা কয়েকটি বড় কম্পানির। এখন স্টার্টআপ, এমএসএমই, বেসরকারি উৎপাদক, প্রযুক্তি সরবরাহকারী এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে ভারতের অন্তত ১৪৫টি প্রতিষ্ঠান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করে।
বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির তালিকায় মধ্যম সারির জিনিসের পরিবর্তে এখন যুক্ত হয়েছে হাইটেক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আকাশ মিসাইল সিস্টেম, অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার, প্রতিরক্ষা ইলেকট্রনিক্স, সফটওয়্যার, কামান, রকেট লঞ্চার, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও ভেসেল, সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, রাডার, সেন্সরসহ উচ্চপ্রযুক্তির বহুমুখী সামগ্রী।
যদিও ভারত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের রপ্তানিতে রেকর্ড সৃষ্টির পরোক্ষভাবে সামগ্রিক রপ্তানিতে এর অবদান এখনো খুব নগণ্য। কিন্তু এখানে কৌশলগত গুরুত্বটা অনেক বেশি। এই সাফল্য প্রকৃতপক্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা পণ্যের প্রতি ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক আস্থা এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ভারতের যুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে দৃঢ় করে।
বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করছেন যে, বিষয়টি কেবল উৎপাদন পরিমাণের মধ্যে সীমিত রাখা হলে সামনের চ্যালেঞ্জ জেতা যাবে না। এখন মনোযোগ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি থেকে সরিয়ে দক্ষতা গভীরতার দিকে মারাত্মকভাবে নেওয়া দরকার। ভারতের সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো নিজস্ব নকশা, ইঞ্জিনিয়ারিং উৎকর্ষ, উন্নত উপকরণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেই নিহিত।
এটা স্পষ্ট যে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও রপ্তানির রেকর্ড রাত্রি রাতি হয়েছে, আকাশ থেকেও পড়েনি। সরকারের ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির আওতায় নিবিড় মনোযোগ, পণ্য বৈচিত্র্য এবং সক্ষমতা বাড়ানোর আন্তরিক চেষ্টার ফলেই এসেছে এই সাফল্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন