প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনের চলমান সংঘাতে যদি কোনো ভাবেই জড়িত হয়ে যায়, তাহলে সৌদি আরবের তেলক্ষেত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো অতি শীঘ্রই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মূল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে, এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি।
এই সতর্কবার্তাটি বৃহস্পতিবার টেলিভিশনের মাধ্যমে সম্প্রচারিত এক ভাষণে গোষ্ঠীটির প্রধান আব্দুল মালিক আল-হুথি প্রদান করেন।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের একটি প্রতিবেদনে এই খবরটি প্রকাশ করেছে।
খবরে বলা হয়েছে, সতর্কবার্তা দেয়ার আগের সোমবার, সৌদি আরব হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনের একটি বিমানবন্দরে হামলা চালায়। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। এর ফলে, দুই পক্ষের মধ্যে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকা দীর্ঘ যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায়। সৌদি আরবে হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে, এবার নতুন করে নিজেদের অবস্থান টানাহাঁটা শুরু করে হুথি।
হুথিরা এর আগেও সৌদি সাম্রাজ্যের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য বানিয়েছে। ২০১৯ সালে, সৌদির দুটি প্রধান তেল স্থাপনায় হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে ছিল গোষ্ঠীটি। এই হামলার কারণে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর, ২০২২ সালে আবারও সৌদি আরবের একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় হুথিরা আক্রমণ করেছিল। তখন সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, জেদ্দায় অবস্থিত আরামকোর একটি পেট্রোলিয়াম পণ্য বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে এবং সেখানে আগুন ধরে গিয়েছিল।
আব্দুল মালিক আল-হুথি টেলিভিশনে প্রদত্ত ভাষণে বলেন, “আমাদের সমীকরণ একেবারে পরিষ্কার, সানা বিমানবন্দরে হামলার জবাবে রিয়াদ বিমানবন্দর, বিমানবন্দরের বদলে বিমানবন্দর, বন্দরের বদলে বন্দরের অবরোধের বদলে অবরোধ।”
হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশে গৃহযুদ্ধ চলছে। এরপর, ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করার জন্য সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের ঘটনার ওপর সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে।
এখন এই সংঘাত বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে, এবং বর্তমান সময়ে দেশটি এডেনভিত্তিক সৌদি-সমর্থিত সরকার এবং সানাভিত্তিক হুথি প্রশাসনের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সূত্র: রয়টার্স।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন