প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচলে আরোপিত অবশিষ্ট বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার জন্য ইরাককে আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। ইরান দাবি করেছে, দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক বিমান যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে পুনঃস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ‘বহির্দেশীয় প্রয়োগের’ মাধ্যমে ইরানের বাণিজ্য ও বিমান পরিবহনকে বাধাগ্রস্ত করার সমালোচনা করে। তেহরান বাগদাদকে অবশিষ্ট বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানায়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের সরকারের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও লাখ লাখ ইরানি ও ইরাকি নাগরিকের চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
সোমবার রাতে ইরান ও ইরাকের নাজাফের মধ্যে ফ্লাইট চলাচল আংশিকভাবে পুনরায় শুরু হয়। ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদির উদ্যোগে এ যোগাযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে।
ইরাকে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত ইয়াসের আবদুলজাহরা আল-হাজ্জাজ জানিয়েছেন, ইরানি ফ্লাইট বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত বাগদাদ নেয়নি। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় বিদেশি ভূমিসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানি বিমানকে সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এদিকে বাগদাদ, এরবিল ও সুলাইমানিয়া বিমানবন্দরে ইরানি ফ্লাইট এখনও স্থগিত রয়েছে। ফলে যাত্রীদের অন্তত ১২ ঘণ্টার স্থলপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরান ও ইরাকের শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোর মধ্যে ধর্মীয় যাত্রী চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। এসব বিধিনিষেধের প্রতিবাদে নাজাফ বিমানবন্দরসহ নাসিরিয়া, কারবালা ও আমারা শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানি বিমান সংস্থার সঙ্গে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাতায়াতকারী ফ্লাইট ৪২ শতাংশ কমেছে। জর্জিয়া, ওমান ও আজারবাইজানের সঙ্গে কয়েকটি রুট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এবং ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে দুবাইগামী ফ্লাইটও স্থগিত রয়েছে।
তবে চীনের সঙ্গে ইরানের বিমান যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক রুট তুরস্কগামী ফ্লাইটও প্রায় ১৯ শতাংশ কমেছে বলে ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য জানিয়েছে।
ইরাক সরকার চিকিৎসা, শিক্ষা, ধর্মীয় সফর ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে ইরানি ফ্লাইটের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি চেয়েছিল। পরে নাজাফ রুটে সীমিতভাবে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন