প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলার প্রকৃতিতে সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতীক মাছরাঙা পাখি। উজ্জ্বল রঙের পালক, লম্বা ঠোঁট ও ক্ষিপ্র শিকার করার দক্ষতার কারণে পাখিটি সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। নদী, খাল, বিল, পুকুর ও জলাশয়ের আশপাশে সাধারণত মাছরাঙার দেখা মেলে।
মাছরাঙা মূলত ছোট মাছ শিকারের জন্য পরিচিত। পানির ওপর কোনো ডাল কিংবা খুঁটিতে বসে শিকারের অপেক্ষা করে পাখিটি। পানিতে মাছের উপস্থিতি টের পেলেই দ্রুত ডুব দিয়ে ঠোঁটে শিকার ধরে আবার নিজের বসার জায়গায় ফিরে আসে। এ অসাধারণ শিকার কৌশল প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে মাছরাঙাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির মাছরাঙা দেখা যায়। প্রজাতিভেদে এদের আকার, রং ও খাদ্যাভ্যাসে পার্থক্য রয়েছে। মাছ ছাড়াও কিছু প্রজাতির মাছরাঙা ছোট জলজ প্রাণী, পোকামাকড় ও অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণী খেয়ে থাকে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মাছরাঙা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাদ্যশৃঙ্খলের অংশ হিসেবে এরা জলজ প্রাণী ও পোকামাকড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পাশাপাশি কোনো এলাকার জলাশয় ও প্রাকৃতিক পরিবেশের অবস্থা বুঝতেও পাখির উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে জলাশয় ভরাট, গাছপালা ও ঝোপঝাড় কমে যাওয়া, পানি দূষণ এবং মানুষের অসচেতনতার কারণে মাছরাঙাসহ বিভিন্ন বন্য পাখির আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে জলাশয় সংরক্ষণ, দূষণ রোধ এবং পাখি শিকার বন্ধে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রকৃতির এই রঙিন পাখিকে টিকিয়ে রাখতে হলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মাছরাঙার অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলার নদী-খাল-বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও সমৃদ্ধ হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন