প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে অ্যাডভোকেটে ফরিদুল আলম সাক্ষ্য দিয়েছেন।
একই সঙ্গে মামলার অন্যতম আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে তার জামিনের আবেদনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষীকে জেরার জন্য সময় চেয়ে পৃথক দুটি দরখাস্ত দাখিল করা হয়।
শুনানি শেষে আদালত উভয় আবেদনই নামঞ্জুর করেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে সাক্ষ্য দেন অ্যাডভোকেটে ফরিদুল আলম। বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
শুনানি শেষে বাদীপক্ষের আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে অ্যাডভোকেটে ফরিদুল আলম আদালতে জবানবন্দি দেন।
আসামি পক্ষ থেকে সাক্ষীকে জেরার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে, তবে আদালত তা মঞ্জুর করেননি।
রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী আরও বলেন, বারবার সময়ের আবেদন করে বিচারিক কার্যক্রম বিলম্বিত করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে। রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুত ও নির্ধারিত সময়ে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে নিতে চায়।
শুনানির সময় চার্জশিটভুক্ত আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়।
অন্য আসামিদের কারাগার থেকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ জুন চট্টগ্রাম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, তৎকালীন সিএমপির কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান চার্জশিট দাখিল করেন। সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
জুন মাসে মামলাটি বিচার উপযোগী বিবেচিত হওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে এ মামলায় ২৭ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। এ ছাড়া ১২ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।
গত ২ ফেব্রুয়ারি নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা জামাল উদ্দিনের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হয়। এ মামলায় এ পর্যন্ত তিনজন সাক্ষী দিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন