বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২০ পি.এম
বই পড়ার অভ্যাস ধৈর্যশীল ও মানবিক জাতি গঠনে সহায়ক: জুবাইদা রহমানএকটি বই কেবল জ্ঞান প্রদান করে না, বরং মানুষের চিন্তা ও মননকে পরিবর্তন করে। বই পড়ার অভ্যাস শিশু-কিশোরদের মধ্যে সহনশীলতা, সহমর্মিতা এবং অন্যদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মানসিকতা গড়ে তোলে। একইসঙ্গে মূল্যবোধ, ন্যায়পরায়ণতা, সততা, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের মতো গুণাবলির বিকাশ ঘটে। এভাবে বই পড়ার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধৈর্যশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে, এমন মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
তিনি উল্লেখ করেছেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে শহরগুলোর পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে পাঠাগারের বিস্তার ঘটানো প্রয়োজন। বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম ও শহরে পাঠাগার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেছেন, নতুন প্রজন্মের বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক যত গভীর হবে, সমাজে তার ইতিবাচক প্রভাব তত বেশি দেখা যাবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে নয় দিনব্যাপী ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার এই বইমেলার আয়োজন করেছে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ, বাংলাদেশের ৯০ হাজার ৪৯টি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ুক এই পাঠাগার। যদি শিশু-কিশোরদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠতে পারে, তবে তাদের মাঝে মূল্যবোধ, ন্যায়পরায়ণতা, সততা, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে এবং শহরে এর প্রতিফলন ঘটবে।’
বই পড়ার ফলে শিশু-কিশোরদের মধ্যে সহনশীলতা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি পাবে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রবণতাও তাদের মধ্যে গড়ে উঠবে। এর মাধ্যমে তারা ধৈর্যশীল মানুষ হিসেবে সমাজে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।
সংগ্রাম ও দেশপ্রেমের পাঠ্যবইয়ে
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে প্রকাশিত বইয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান।
রাজনৈতিকসংবাদ পড়ুন
তিনি বলেন, এসব বইয়ে তাঁদের জীবনের সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা, ধৈর্য, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের কথা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের আদর্শ ও দিকনির্দেশনা চলার পথে পাথেয় হয়ে থাকবে।
তবে অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক ইতিহাসের মধ্যে পাঠচর্চাকে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বের জ্ঞান ও ইতিহাস সম্পর্কে জানার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
বই পড়ার অভ্যাসের হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে সারা বিশ্বের জ্ঞান আহরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু বাংলাদেশের নাগরিক নই, আমরা সারা বিশ্বের নাগরিক। তাই আমাদের সারা বিশ্বের জ্ঞান আহরণ করতে হবে। আমরা আল্লাহর কাছে অর্থ ও সুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি জ্ঞান অর্জনের জন্য দোয়া করি, জ্ঞান আহরণের জন্য দোয়া করি।’
মাহবুব উল্লাহর ভাষায়, ‘একটি সভ্য জাতির প্রতীক হচ্ছে—বই, বই এবং বই। আর সভ্য জাতির চর্চা হচ্ছে—পড়ো, পড়ো, পড়ো। আমরা কি পড়ি? আমরা কি জ্ঞানচর্চা করি?’
জ্ঞানচর্চায় বাংলাদেশ যদি সামনের সারিতে থাকতে পারে, তাহলে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি দেশের মানুষকে অপমান করার কিংবা দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কথা বলার সুযোগ পাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জিয়া পাঠাগারের কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি বিশ্বের তাবৎ নেতাদের নিয়েও পড়াশোনা করতে হবে। কীভাবে তারা নিজেদের দেশকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে নিয়ে গেছেন, তা জানতে হবে।
একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতি, কবি, বিজ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তিদের নিয়েও পড়াশোনা ও চর্চার আহ্বান জানান তিনি।
প্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিতে অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মাহবুব উল্লাহ বলেন, এসব ক্ষেত্রে অগ্রসর না হলে কোনো পরাশক্তি বা আধিপত্যবাদের সঙ্গে পেরে ওঠা সম্ভব নয়।
দেশের গ্রন্থাগারগুলোর অবহেলার বিষয়টিও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন মাহবুব উল্লাহ।
তিনি বলেন, এদেশে গ্রন্থাগার সবচেয়ে অবহেলিত। এটিই প্রমাণ করে, জাতি হিসেবে আমরা এখনো রুচিশীল ও মার্জিত হতে পারিনি।
নিজের ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, একসময় মানুষ গ্রন্থাগারে গিয়ে পড়াশোনা করতেন। পত্রিকা পড়ার পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যাসও ছিল মানুষের মধ্যে।
গ্রন্থাগারগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি করা গেলে সমাজের নানা কুসংস্কার, অজ্ঞতা ও অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। তরুণদের নেশার জগৎ থেকেও ভালো পথে ফিরিয়ে আনতে বই ও পাঠাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আরও বেশি বই পড়ার আহ্বান জানান জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ। নিজের সহকর্মীদের মধ্যে বই পড়ার চর্চা কমে যাওয়ায় একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি গ্লানি বোধ করেন বলেও জানান।
তিনি বলেন, তার সহকর্মীদের মধ্যে বই পড়ার চর্চা অনেক কমে গেছে। যে জাতি পড়াশোনা করে, তাদের কেউ আটকাতে পারে না।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালামসহ অনেকে।
ট্রাভেলগাইড পড়ুন
অনুষ্ঠানের শুরুতে কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতা আবৃত্তি করেন মুন্সি রেজাউল হোসেন টিটু।
নয় দিনব্যাপী ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা ২০২৬’-এ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত বইয়ের পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস ও শিশুতোষ বই স্থান পেয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাইকপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে মুন্সিগঞ্জে আয়োজিত সুজুকির রাইডার্স ডে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় দুই শতাধিক সুজুকি গ্রাহক ও বাইকার এতে অংশ নেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, খেলাধুলা, বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতা ও মতবিনিময়।
বৃহস্পতিবার (৩রা সেপ্টেম্বর) বাইকার্স চয়েস-সুজুকি মুন্সিগঞ্জের উদ্যোগে সিরাজদিখানের মর্ডান গ্রিন সিটি রিসোর্টে এ আয়োজন করা হয়।
সকালে মুন্সিগঞ্জ সদরের হাতিমারা রামপাল এলাকা থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রাটি গিয়ে শেষ হয় সিরাজদিখানের মর্ডান গ্রিন সিটি রিসোর্টে।
পরে সেখানে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে নানা ধরনের খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
মিনি ফুটবল, স্নো রাইটসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বাইকাররা। দিনভর খেলাধুলা ও আনন্দ-উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে রিসোর্ট প্রাঙ্গণ। একপর্যায়ে আয়োজনটি পরিণত হয় সুজুকি বাইকারদের মিলনমেলায়।
আয়োজকরা জানান, মুন্সিগঞ্জের সুজুকি বাইকিং কমিউনিটির সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বাইকার্স চয়েস-সুজুকি মুন্সিগঞ্জের সেবা ও সুযোগ-সুবিধা, সীমাবদ্ধতা এবং বাইকারদের প্রত্যাশা নিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করা হয়।
অনুষ্ঠানে গ্রাহকদের স্বাগত জানান সুজুকির অথোরাইজড ডিলার ও বাইকার্স চয়েসের স্বত্বাধিকারী ইমান হোসাইন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুজুকি বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার মো. রাশেদুল হাসান, রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মো. রাজিবুর রহমান, সার্ভিস ম্যানেজার মো. কামরুল হাসান, টেরিটোরি সেলস ম্যানেজার মো. ইমতিয়াজ হোসাইন ও প্রান্ত পাল।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে মুন্সিগঞ্জ জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট রাকিব হাসান জিসানসহ সুজুকি বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে মোহাম্মদ উয়ালিউর রহমান, মো. ইয়াসিন ও মাসুদ রানা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ীদের হাতে বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লন্ডনে চালকবিহীন ট্যাক্সির যুগের সূচনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো ভাড়া করে চালকবিহীন ট্যাক্সিতে যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার উবার অ্যাপে ওয়েভের চালকবিহীন গাড়ি যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এই সেবা শুরু হয়েছে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে রোবোট্যাক্সি পাওয়ার সম্ভাবনা বর্তমানে খুব কম। কারণ, বর্তমানে মাত্র ১৫টি গাড়ি এ সেবার জন্য অনুমোদিত হয়েছে। এর বিপরীতে, লন্ডনে নিবন্ধিত ব্যক্তিগত ভাড়ার গাড়ির সংখ্যা এক লাখের বেশি। স্বচালিত গাড়িতে যাতায়াতের জন্য নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় এক লাখ।গাড়িগুলোতে এখনো একজন অনুমোদিত মানবচালক সামনের আসনে থাকবেন। প্রয়োজন হলে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে পারবেন।গত মাসে লন্ডনের পরিবহন কর্তৃপক্ষ ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল) এসব গাড়িকে নিরাপত্তা চালকসহ ব্যক্তিগত ভাড়ার গাড়ি হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। তবে, নিরাপত্তা চালক ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বচালিতভাবে চলাচলের জন্য আলাদা সরকারি প্রক্রিয়ায় অনুমোদন নিতে হবে। এ দায়িত্ব ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকেল স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সির (ডিভিএসএ)। এ অনুমোদন পেতে আরও সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।তবুও, বৃহস্পতিবারের উদ্বোধনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। লন্ডনে চালকবিহীন ট্যাক্সি চালুর দৌড়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে উবারকে এগিয়ে দিয়েছে এই উদ্যোগ। ইউরোপের অন্যান্য শহরে এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের জন্য লন্ডনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গুগলের মালিকানাধীন ওয়েমো এবং চীনা প্রতিষ্ঠান বাইদুও লন্ডনে তাদের রোবোট্যাক্সি পরীক্ষা করছে।
ওয়েভের প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্স কেন্ডাল বলেছেন, "লন্ডন তাদের নিজ শহর এবং বিশ্বের অন্যতম জটিল সড়ক ব্যবস্থার একটি জায়গা।" তাই এখানকার মানুষের জন্য প্রথমবারের মতো ওয়েভের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত প্রযুক্তি উন্মুক্ত করতে পেরে তিনি গর্বিত।
তিনি আরও বলেন, "প্রযুক্তিটি এখনো উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে।" তবে নিরাপত্তা চালক ছাড়াই রোবোট্যাক্সি সেবা চালুর লক্ষ্য তাদের রয়েছে। কবে নাগাদ তা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে রাজি হননি কেন্ডাল।
ওয়েভ ভবিষ্যতে ব্যাপক উৎপাদনের উপযোগী গাড়ি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে নতুন নিসান লিফ মডেলের রোবোট্যাক্সিতে তাদের প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। এ প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই এবং সরকারি অনুমোদন নেওয়ার কাজ একসঙ্গে চলছে বলে জানিয়েছেন কেন্ডাল।
ওয়েভের স্বচালিত প্রযুক্তি প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েমোর মতো বিস্তারিত ম্যাপিংয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শেখার মডেলের মাধ্যমে গাড়ি চালানোর সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে।
উবার অ্যাপের মাধ্যমে গাড়ি ডাকা ও আনলক করা যাবে। গাড়িতে থাকা চালক যাত্রীকে পরিচয় দেওয়ার পর জানাবেন, যাত্রার সময় তিনি কথা বলবেন না। তবে যাত্রী চাইলে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে পারবেন।
লন্ডনেই প্রথমবার ভাড়ার জন্য স্বচালিত ট্যাক্সি চালু হলেও বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ চালকবিহীন ট্যাক্সি চলাচল করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন শহরে এ ধরনের সেবা চালু রয়েছে।
চলতি বছরের গ্রীষ্মের শুরুতে ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেবে ইউরোপের প্রথম বাণিজ্যিক রোবোট্যাক্সি সেবা চালু করতেও অংশীদার হয়েছিল উবার। সেখানেও লন্ডনের মতো একজন মানবচালক গাড়িতে থাকেন।
উবারের স্বচালিত পরিবহন বিভাগের প্রধান সারফরাজ মারেদিয়া বলেছেন, "বিশ্বের অন্যতম জটিল সড়ক ব্যবস্থার একটি শহরে নিরাপদ ও সহজলভ্য স্বচালিত গাড়ি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে লন্ডনে এ সেবা চালু করা বড় মাইলফলক।"
তবে স্বচালিত গাড়ির দ্রুত সম্প্রসারণ নিয়ে সতর্ক করেছে শ্রমিক সংগঠন জিএমবি। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সংগঠক ডেভিড ম্যাকমুলেন বলেছেন, "প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।" তাই চালকবিহীন গাড়ি চালুর ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে। অন্যথায় নজিরবিহীন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব নিয়ে সংসদে বাহাসগত তিনদিন ধরে চলমান ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠনের আগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মধ্যে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এই সময় বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করেন, অতীতে বিরোধীদল থেকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের নজির রয়েছে। অন্যদিকে, সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় বিরোধীদল অংশগ্রহণ করলে আসনের অনুপাতে কমিটির সভাপতির পদও তাদের দেওয়া হবে।
আগের দিনের আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধীদল থেকে স্থায়ী কমিটির সভাপতি করার নজির নেই বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় শফিকুর রহমান নবম জাতীয় সংসদের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সেখানে বিরোধী দল থেকে দুইজন স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন, তাই নজির রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই অনুযায়ী সংসদীয় কমিটিতেও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব ইতোমধ্যে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে দেওয়া হয়েছে। তিনি অতীতে বিরোধী দল থেকে কমিটির সভাপতি করার নজির থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।
এরপর জুলাই জাতীয় সনের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন বলেন, বিরোধীদল যদি সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়, তবে আসনের অনুপাতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়া হবে।
বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা শুভ সূচনা করুন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আপনারা অংশগ্রহণ করুন যা বক্তব্য আছে সেখানে দিন।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান সংশোধনের কাজ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব আমরা সেই সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে আসবো যাতে করে তা কার্যকর করা যায় এবং সংসদের উচ্চকক্ষ স্থাপন করা সম্ভব হয়।
বিরোধী দলের রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক, সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য সকলকে একসঙ্গে আলোচনা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, এখানে আমাদের সকলকে একসাথে বসে তর্কের মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, এবং মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নেপালের রাসুয়ায় বন্যার কারণে ভেসে যাওয়ার ঘটনায় সরকারের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে যে, এক হাজার ২৫৯টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনও পাঁচ হাজার ৮৩ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে মাত্র ৯৫টির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং সেগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, ১২ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিন হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।-বিবিসি বাংলা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ