বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:৩৪ পি.এম
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের ধুরাইল জাফরুল উলুম আলিম মাদরাসায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলস্বরূপ, মাদরাসাটি তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানিয়ে দিয়েছে, 'বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস বর্জন থাকবে।'
প্রতিষ্ঠানে ৬০০ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি থাকলেও বৃহস্পতিবার যান গেলে কয়েকজন শিক্ষার্থীর দেখা মেলে। এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, 'আমাদের সহপাঠিকে মারধর করা হয়েছে।' তারা আরও জানায়, 'এ ধরনের ঘটনা আরো কয়েকবার ঘটেছে এবং কোন বিচার মেলেনি। আমরা বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস বর্জন করেছি।'
স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটকের সামনে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমাম আজমকে মারধর করে বহিরাগত চাদশ্রী আশ্রাম পাড়া এলাকার হুমায়ুনের ছেলে শান্ত। এই ঘটনার কারণে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত রয়েছেন।
৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমাম আজম বলেন, 'আমি নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম। এ সময় দুই জন এসে আমাকে নাম জিজ্ঞেস করে। পরে তারা জানায়, আমার বিচার আছে। এরপরই তারা এসে আমাকে মারধর করে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।'
এ বিষয়ে অভিযুক্ত তরুণের চাচা বদরুল আহসান বলেন, 'আমি শুনেছি আমার ভাতিজার দ্বারা ওই শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় মারে। আমি মনে করি, শিক্ষকরা এই ঘটনাটি সমাধান করতে পারতেন। একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উসকানি দিয়েছেন ক্লাস না করার জন্য। আমরা আজ এ বিষয়ে বসব সমাধানের ব্যাপারে।'
অন্যদিকে, ক্লাস বন্ধ থাকার বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, 'বাহিরের শান্ত নামের এক তরুণ আমার শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে বলে শুনেছি। কিন্তু ঘটনার পর মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়নি, কিছুটা বিশৃঙ্খল বা অগোছালো পরিবেশ তৈরি হয়েছিল মাত্র। আজ বিষয়টি সমাধানের জন্য বসার কথা রয়েছে।'
এদিকে তিন দিন ধরে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, 'প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার বিষয়টি তিনি জানেন না।' উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, 'আমি ঘটনাটি শুনেছি। আজ দুই পরিবারকে নিয়ে সমাধানের বসার কথা জানিয়েছে অধ্যক্ষ।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানায় প্রায় চার মাস দায়িত্ব পালন শেষে বদলি হয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে মোঃ মাহবুর রহমান যোগদান করেছেন। তাঁর আগমনের কারণে ভৈরবের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে নতুন করে আশা ও প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।
ভৈরব, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও যোগাযোগকেন্দ্র। ঢাকা-সিলেট এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হওয়ার পাশাপাশি মেঘনা নদী-কেন্দ্রিক নৌপথ, ব্যস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কারণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
নিকলী থানায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বলে জানা গেছে স্থানীয় সূত্রে। এবার ভৈরব থানার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি আরও বড় পরিসরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন।
স্থানীয় নাগরিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ধারণা, নতুন ওসি হিসেবে মাহবুর রহমান মাদক, সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সাইবার অপরাধ দমনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
এছাড়া, সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও গতিশীল করে জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করবেন। সচেতন মহল মনে করছে, পুলিশের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে ইতিবাচক সমন্বয় বজায় থাকলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
ভৈরববাসীর প্রত্যাশা, নবযোগদানকৃত ওসি মোঃ মাহবুর রহমানের নেতৃত্বে থানার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শান্তি, নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নতুন গতি আসবে। দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন দিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুর মহানগরের হারাগাছ থানাধীন এলাকায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় রাশেদুল ইসলামকে (২০) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তাকে আদালতের মাধ্যমে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হারাগাছ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, বুধবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ধর্ষণ আইনে মামলা করেন। মামলার পর অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। রাশেদুল লালমনিরহাট সদর উপজেলার হরিনচওড়া কালমাটি এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে অভিযুক্তের সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় ঘটে। তখন রাশেদুল নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে বিয়ের আশ্বাসে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ভুক্তভোগী তাকে জানান, তিনি তালাকপ্রাপ্ত এবং তার দুই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। এরপরও অভিযুক্ত সন্তানসহ তাকে বিয়ে করে সংসার করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এজাহারে বলা হয়, বিয়ের কথা বলে গত ২৮ জুলাই ফরিদপুর থেকে রংপুরে আসতে বলেন রাশেদুল। পরে তিনি ভুক্তভোগী ও তার শিশুসন্তানকে হারাগাছ থানার বাহারকাছনা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তিনি বিয়ের আশ্বাস দিয়ে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরদিন রাতে অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
ভুক্তভোগী নারীর দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করেই তিনি দূর থেকে রংপুরে এসেছিলেন। পরে বিয়ে না করে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তিনি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, ভুক্তভোগীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন আদালত পুলিশের ওসি আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষিকে আরও যান্ত্রিকীকরণের লক্ষ্যে চারজন প্রান্তিক কৃষকের হাতে বিনামূল্যে মিনি গার্ডেন টিলার তুলে দিয়েছে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল দশটায় উপজেলার গাছাবাড়ি ব্র্যাক শাখা কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মিনি গার্ডেন টিলার বিতরণ করা হয়। এ সময় প্রতিটি মেশিনের সঙ্গে দশজন করে কৃষককে নিয়ে একটি গ্রুপ গঠন করা হয়, যাতে তারা সমন্বিতভাবে সবজি বাগান ও ক্ষুদ্র পরিসরের জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে টাঙ্গাইল-৩ রিজিওনের মধুপুরের এরিয়ার এলাকা ব্যবস্থাপক আবুল বাশার সিদ্দিকী বলেন, “আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষকদের শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ব্র্যাকের এই উদ্যোগ প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এবং স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, ব্র্যাকের এই কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণ করা হবে। প্রান্তিক কৃষকদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে এই ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে গাছাবাড়ি শাখার শাখা ব্যবস্থাপক সুজন, সিডিও (CDO), শাখা হিসাব কর্মকর্তা এবং ব্র্যাকের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিনামূল্যে মিনি গার্ডেন টিলার পেয়ে উপকারভোগী প্রান্তিক কৃষকরা ব্র্যাকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, আধুনিক এই কৃষিযন্ত্রের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিকাজকে আরও সহজ ও লাভজনক করার চেষ্টা করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার গেজেটভুক্ত সদর দপ্তরের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস.এম হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার প্রাচীন জনপদ কান্দিপাড়া বাজার সংলগ্ন নয়াবাড়ি মৌজা পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় কমিশনারের ইতিবাচক আশ্বাসে উল্লাসে মেতে উঠেন আট ইউনিয়নের মানুষ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইউসুফ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমির সালমান রনিসহ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, "আপনাদের দাবি ও area's বাস্তবতা আমি নিজ চোখে দেখেছি। সরকারি গেজেট, জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা স্থাপনের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।"
বিভাগীয় কমিশনার আসার খবরে ভোর থেকেই নয়াবাড়ি মাঠে জড়ো হন দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের ৮টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। হাতে ছিল 'গেজেট হইছে যেইখানে, উপজেলা হবে সেইখানে' লেখা ব্যানার-ফেস্টুন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি তুলে ধরেন।
স্থানীয়রা বলেন, "গেজেট অনুযায়ী ইউনিয়নের জে এলভুক্ত ১৪৩ নং নয়াবাড়ি মৌজায় উপজেলা সদর দপ্তর হলে ৮ ইউনিয়নের ৩ লক্ষাধিক মানুষ সহজেই প্রশাসনিক সেবা পাবেন। নয়াবাড়ি মৌজা দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের প্রাণকেন্দ্র। এখানে সদর দপ্তর হলে আটটি ইউনিয়নের মানুষ সমান দূরত্বে সেবা পাবে। বর্তমানে গফরগাঁও সদরে কাজের জন্য যেতে যে ভোগান্তি হয়, তা থেকে মুক্তি মিলবে।"
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. ইসহাক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ.কে.এম আনছারউদ্দিন, গফরগাঁও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিএনপি নেতা আব্দুস ছালাম বেপারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবি, নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার দক্ষিণ গফরগাঁওবাসী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ