প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৭ জুন, ২০২৬ : পোপ লিও চতুর্দশ স্পেন সফরের দ্বিতীয় দিনে রোববার মাদ্রিদে একটি উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে বিশাল ধর্মীয় প্রার্থনা সভায় নেতৃত্ব দেবেন।
এই ধর্মীয় সমাবেশে অংশগ্রহণ করার জন্য আয়োজকদের আশা, ১০ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মানুষ সেখানে অংশ নিতে পারবেন। এটি এক সপ্তাহব্যাপী স্পেন সফরের অন্যতম প্রধান আয়োজন।
২০১০ সালের পর কোনো পোপের এটি প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর স্পেনের দিকে। সফরের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কয়ারে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ এবং রানী লেটিজিয়া। গরম আবহাওয়ার মধ্যেও সেখানে বিপুলসংখ্যক ভক্ত-অনুসারীর উপস্থিতি প্রত্যাশিত।
মাদ্রিদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি জানাতে সক্ষম হয়েছে।
অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি মঞ্চ, সাতটি জায়ান্ট স্ক্রিন, ৬০৮টি লাউডস্পিকার, ২ হাজার ৩০০টি অস্থায়ী শৌচাগার, ১০টি পানির ব্যবস্থা ও ৮ সহস্রাধিক ব্যারিকেড।
প্রার্থনা সভার পর পোপ সিবেলেস স্কয়ার থেকে বিখ্যাত গ্রান ভিয়া বাণিজ্যিক সড়ক পর্যন্ত কয়েকশ মিটার পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন এবং পরে আবার সিবেলেসে ফিরে আসবেন।
শোভাযাত্রার পথজুড়ে ভ্যাটিকানের পতাকার রঙের সঙ্গে মিল রেখে সাদা ও হলুদ রঙের ৩০ সহ¯্রাধিক কার্নেশন ফুল দিয়ে নকশা করা ফুলের কার্পেট সাজানো হয়েছে।
স্পেন ঐতিহাসিকভাবে গভীরভাবে ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী স্থান হলেও, ইউরোপের অন্যান্য অনেক দেশের মতো এখানে কয়েক দশক ধরে ধর্মীয় চর্চা কমে আসছে। এমন এক প্রেক্ষাপটে এই ধর্মীয় আয়োজন পালিত হচ্ছে।
রোববার রাতে পোপ সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও অর্থনীতির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একটি বৈঠক করবেন। আধুনিক নাগরিক সমাজ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে সংলাপ জোরদার করাই এর উদ্দেশ্য।
শনিবার রাতে প্রার্থনা জাগরণ অনুষ্ঠানটিতে অংশ নিতে ফুটবল ক্লাব রিয়েল মাদ্রিদের বার্নাব্যু স্টেডিয়ামের বাইরে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ জড়ো হয়। তাদের বেশিরভাগই তরুণ। অনুষ্ঠানটি গভীর রাত পর্যন্ত চলছিল।
স্পেন সফরের শুরুতে মাদ্রিদের রাজপ্রাসাদে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনায় অংশ নিয়ে পোপ সমাজে ‘বিভাজনমূলক বক্তব্য’ ও ‘অকার্যকর সরলীকরণ’ বন্ধ করার আহ্বান জানান।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ইস্যুতে দেশটির বামপন্থী সরকার পোপের নিজ দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছে।
স্পেনের ‘শান্তি ও জনগণের মধ্যে সংহতির প্রতি সক্রিয় অঙ্গীকারের’ও প্রশংসা করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার ও বুধবার পোপের বার্সেলোনা সফর হবে। সেখান তিনি বিশেষভাবে সাগ্রাদা ফামিলিয়া ব্যাসিলিকাকে আশীর্বাদ করবেন। সম্প্রতিকালে নির্মিত মিনারটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু গির্জায় পরিণত হয়েছে।
সফরের শেষ দুই দিন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার, তিনি ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে কাটাবেন। অনিয়মিত অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য এই দ্বীপপুঞ্জে অভিবাসন সংকট তাঁর সফরের আলোচনার মূল বিষয় হয়ে থাকবে।
স্থানটিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন