প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে বছরের পর বছর ছদ্মবেশে জীবন যাপন করে এবং একাধিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে সহায়তা করা কসোভো বংশোদ্ভূত একজন ব্যক্তিকে এখন বাধ্যতামূলকভাবে তার নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্ট) উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই খবরটি এনডিটিভি জানিয়েছে, সিবিএস নিউজের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাতে।
ভুক্তভোগী ব্যক্তিটির নাম ব্লেয়ারিম স্কোরো (৫৫)। তিনি তিন সন্তানের জনক এবং দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। গত ৩ আগস্ট নিউ জার্সির একটি অভিবাসন কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নবায়ন করার সময় মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তাকে গ্রেপ্তার করে।
স্কোরোর আইনজীবীরা এখন তার বহিষ্কারাদেশ ঠেকানোর জন্য ইতিমধ্যেই দেশটির ফেডারেল আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাদের যুক্তি হল, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজ করার ফলে কসোভোতে তার প্রাণনাশের চরম ঝুঁকি রয়েছে। এই ঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই এর আগে আদালত তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
নিউজিল্যান্ডের ইমিগ্রেশন অফিসে গ্রেপ্তারের সময় স্কোরোর পাশে ছিল তার স্ত্রী সুসান স্কোরো। তিনি ক্ষোভ ও আক্ষেপের সঙ্গে সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘তারা ওর সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
ও নিজে সাজা খেটেছে, দেশের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত ছিল—কিন্তু এখন কারও কিছু আসে যায় না! ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমার যোগ্য।’
তিনি আরো বলেন, ‘ওকে বিশ্বের কোথাও নিরাপদে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়, আমরা সবসময় জীবনের ঝুঁকিতে থাকি।’
বর্তমানে স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ করছেন স্কোরোর স্ত্রী এবং সন্তানরা আমেরিকান নাগরিক। আইনজীবীদের দাবি, মার্কিন আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার বিনিময়ে তাকে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেশী সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে হেরোইন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্কোরোর সম্পর্ক গড়ে উঠে। ১৯৯৪ সালে কসোভো সংঘাত থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রয় চেয়েছিলেন তিনি। সেখানে গিয়ে পারিবারিক সমস্যা সামলাতে না পেরে অপরাধের জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন।
পেনসিলভানিয়ার একটি ফেডারেল কারাগারে সাজা খাটার সময় স্কোরো উগ্রপন্থীদের সাথে যুক্ত হন। সেখান থেকেই এফবিআই-এর ‘গোপন তথ্যদাতা’ হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর সিআইএ তার এই যোগাযোগকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে কারাগারে বসেই তিনি লাকাওয়ানা সিক্স, ভার্জিনিয়া জিহাদ নেটওয়ার্ক এবং হিজবুল্লাহর মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের তথ্য মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে পৌঁছে দেন।
এমনকি সিবিএস নিউজের হাতে পাওয়া ২০০৪ সালের এফবিআই নথি থেকে জানা গেছে, স্কোরো ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি তদন্তেও তথ্যদাতা ছিলেন। তিনি সিরিয়ার এক সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ ক্যাম্পসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যেগুলি অত্যন্ত নিখুঁত ও কার্যকর ছিল।
২০০৭ সালে সাজা শেষ হওয়ার পর কসোভোতে ফেরত পাঠানো হলেও সিআইএ-এর অনুরোধে বলকান অঞ্চলে আল-কায়েদা নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের কাজ চালিয়ে যান স্কোরো। আইনি নথিপত্র অনুযায়ী, তিনি ছদ্মবেশে সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান, পাকিস্তান এবং মিসর ভ্রমণ করেছেন। এই গোপন মিশন চলেছিল ২০০৯ সাল পর্যন্ত। তিনি সিআইএ, এফবিআই এবং ইউএস ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) হয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন।
২০১৪ সালে কসোভোতে একটি হামলায় পায়ে গুলি লাগার পর নিজের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কানাডা হয়ে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন স্কোরো। পরে ২০১৬ সালে মেয়ের ডিসকাউন্ট কার্ড ব্যবহার করায় নিউইয়র্ক পুলিশ তাকে আটক করলে ওই বিষয়টি আবারও ইমিগ্রেশনের হাতে চলে যায়।
এরপর ২০২২ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘের ‘কনভেনশন এগেইনস্ট টর্চার’-এর আওতায় এক আমেরিকান বিচারক রায় দেন যে, কসোভোতে নির্যাতন বা হত্যার আশঙ্কা থাকায় স্কোরোকে সেখানে ফেরত পাঠানো যাবে না। তবে এই রায়ে তাকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় নতুন করে আইসিই এর হাতে বন্দি হতে হয়েছে স্কোরোক। নিউ জার্সির এলিজাবেথ ডিটেনশন সেন্টার থেকে কাতর কণ্ঠে তিনি সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি তারা আমার সঙ্গে এভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করবে। দয়া করে আমাকে বাঁচান, আমি যদি মারাও যাই, এই দেশেই মরতে চাই যেন আমার সন্তানরা আমাকে এখানেই কবর দিতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন