প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ : বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে সরকার আরও দক্ষতা অর্জন করবে। ফলে নাগরিক সেবা আরও সহজভাবে প্রদান করা হবে।
আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন ডিজিটাল সরকার ও অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ (ইডিজিই) প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ৫ দিনব্যাপী ‘স্ট্যাট্রিজিক ইউজ অব এআই টুলস এন্ড সাইবার সিকিউরিটি ফর পিএমও অফিসিয়ালস’ বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব বক্তব্য দেন।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সরকার দ্রুত ও আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হবে, ফলে প্রশাসনিক জটিলতা কমে যাবে এবং নাগরিক সেবা উন্নত হবে।
এছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আওতায় একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে দক্ষ মানবশক্তি তৈরি, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের সুযোগ বৃদ্ধি করবে। বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শুধুমাত্র প্রযুক্তির ব্যবহার দেখানো নয়; বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনকে সহজতর করা। আমরা একটি স্মার্ট সরকার ব্যবস্থা তৈরি করতে চাই, যেখানে নাগরিকরা সহজে এবং দ্রুত সেবা পাবেন, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং প্রশাসন হয়ে উঠবে কার্যকর, দক্ষ এবং জনবান্ধব।
উপদেষ্টা জানালেন, সভ্যতার অগ্রযাত্রায় কৃষি বিপ্লব, শিল্প বিপ্লব ও ডিজিটাল বিপ্লবের পর এখন শুরু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপ্লব। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা, নাগরিক সেবা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করা দরকার। সঠিকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার প্রশাসনকে আরও দক্ষ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করে তুলতে পারে।
তিনি আরও যোগ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আজকাল ব্যবহার হচ্ছে তথ্য বিশ্লেষণে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে, কাজের গতি বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়নে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের বিকল্প নয়; বরং এটি মানুষের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। প্রযুক্তি কখনও মানুষের প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের বিকল্প হতে পারে না; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রজ্ঞা ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা প্রদান করবে।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, এই প্রশিক্ষণের প্রকৃত সফলতা কর্মক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার বাস্তব প্রয়োগের ওপর নির্ভর করবে। এই জ্ঞান শ্রমসাধ্য সরকারি কাজ ও সাইবার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি স্মার্ট, দক্ষ এবং জনকেন্দ্রিক প্রশাসন গড়ে তোলা। স্মার্ট জনপ্রশাসন নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের চাপ কমিয়ে কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ও সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। ফলে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং নাগরিকরা আরও দ্রুত, সহজ এবং মানসম্মত সেবা পাবেন।
মো. জবিউল্লাহ বলেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও আসতে পারে। তাই এই পরিবর্তনের জন্য আমাদের জনগণকে প্রস্তুত করতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কিছু প্রচলিত বা রুটিন কাজের ধরন পাল্টে যেতে পারে এবং নতুন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হয়ে উঠবে। এজন্য কর্মকর্তাদের নতুন দক্ষতার ওপর প্রশিক্ষিত করা জরুরি হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান, ডিজিটাল দক্ষতা এবং তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি জানান, মানুষের দক্ষতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতাকে একত্রে কাজে লাগিয়ে হিউম্যান এআই সহযোগিতা বাড়ানো হবে ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা জানালেন, ধাপে ধাপে সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তার বিষয়েও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। শীঘ্রই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এআই টুলসের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজের সময় এবং শ্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। এতে কর্মকর্তারা সল্প সময়ে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে বাকি সময় আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয় করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরির কাজও চলছে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন উপদেষ্টা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন