প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য ই-পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস। দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংকট, অনলাইন ব্যবস্থার জটিলতা এবং সেবা গ্রহণে অপেক্ষার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল প্রবাসীদের মধ্যে। এ বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে দূতাবাস বিশেষ কনস্যুলার কার্যক্রম শুরু করেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এ বিশেষ সেবার প্রথম দিনে ৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করেছেন। ওই দিনে পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই অনেক আবেদনকারী নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পান।
দূতাবাসের সূত্র জানায়, ফরাসি প্রেফেকচারে রেসিডেন্স পারমিট সংক্রান্ত জরুরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে আছেন এমন প্রবাসীরা এবং দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ আবেদনকারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২৫ জুলাই, ৮ আগস্ট এবং ২২ আগস্ট তিনটি শনিবার বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালু থাকবে।
সম্পrecent, ইমেইলভিত্তিক আবেদন পদ্ধতির পরিবর্তে ওয়েবসাইট ভিত্তিক অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করে দূতাবাস। তবে সীমিত সংখ্যক স্লট এবং অতিরিক্ত আবেদনকারীর কারণে অনেক প্রবাসী সময়মতো অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। কিছু আবেদনকারী ওয়েবসাইটে কারিগরি সমস্যার কথাও জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিল বলেন, ই-পাসপোর্ট একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া। আবেদনকারীর ছবি, আঙুলের ছাপ, স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের পর কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পাসপোর্ট প্রস্তুত করা হয়। তিনি জানান, আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিশेष কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমে দূতাবাসের আহ্বানে কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের স্বেচ্ছাসেবীরা সহযোগিতা করছেন। আবেদনকারীদের তথ্য প্রদান, সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে তারা কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল করার ভূমিকা রাখছেন।
এ কার্যক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরাও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশ নাগরিক পরিষদ ফ্রান্স, বিএনপি ফ্রান্সসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেবাগ্রহীতাদের সহযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি ফ্রান্সের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদুর রহমান জুনেদ বলেন, আমরা নিয়মিত পাসপোর্ট সেবাগ্রহীতাদের সহযোগিতা করার জন্য দূতাবাসে উপস্থিত হচ্ছি। কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলে সমন্বয় করার চেষ্টা করছি। আমাদের লক্ষ্য, প্রবাসীরা যেন দ্রুত ও নির্বিঘ্নে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন।
কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা মিল্টন সরকার বলেন, প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত সমস্যা দীর্ঘদিনের। ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে সাধারণ প্রবাসীরা যেন সহজে এবং হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পান, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আমরা প্রবাসীদের পাশে থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।
বাংলাদেশ নাগরিক পরিষদ ফ্রান্সের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর বলেন, প্রবাসীদের নাগরিক সেবার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দূতাবাসের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তবে সেবাকে আরও গতিশীল ও প্রবাসীবান্ধব করার সুযোগ রয়েছে।
প্রবাসীদের মতে, বিশেষ এই উদ্যোগটি স্বাগতযোগ্য হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে, দ্রুত যোগাযোগের ব্যবস্থা চালু করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত কনস্যুলার সেবা বাড়াতে হবে।
তাদের প্রত্যাশা, ই-পাসপোর্ট সেবা ভবিষ্যতে আরও সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত হবে এবং ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই সেবার পূর্ণ সুবিধা পাবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন