প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলি এলাকায় অবস্থিত জয় তারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির অবস্থান। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী পদচারণায় মুখরিত থাকে। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের মাঠটি পরিণত হচ্ছে ছোট্ট একটি জলাশয়ে। পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকার কারণে বৃষ্টির পানি জমে থাকে দীর্ঘ সময়, ফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
বুধবার (২৪ জুন) রাতের অল্প বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে জমে থাকা পানির কারণে বহু শিক্ষার্থীকে জুতা হাতে নিয়ে, কাদা ও পানি মাড়িয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিস্থিতি কষ্টকর হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলেও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধান দীর্ঘদিন ধরে হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতে মাঠে পানি জমে যাওয়ার ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব হওয়া আবশ্যক। কিন্তু মাঠে পানি জমে থাকার কারণে শিশুদের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষভাবে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় রয়েছে। অনেক শিশু পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকির মুখে আছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির সময় মাঠে পানি জমে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে প্রভাব পড়ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে বিরত হচ্ছেন। এর ফলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে পাহাড়তলী থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রূপা অঞ্জলি কর বলেছেন, এই বিষয়টি আমাদের বিভিন্ন দৃষ্টিতে নজরে এসেছে। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে বিষয়টি জানাবো। আমরা চেষ্টা করবো খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী সমাধান আবিষ্কার করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে। তবে এটি মূলত একটি সাময়িক সমস্যা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের দাবি অনুসারে, সাময়িক হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সমস্যা হালকাভাবে দেখা যাবে না। কারণ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা মোটেও কাম্য নয়। শিশুদের নিরাপদ শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।
শিক্ষাই একটি জাতির মেরুদণ্ড এবং সেই শিক্ষার প্রথম ধাপ প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু যদি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পৌঁছাতেই পানি ও কাদা মাড়িয়ে সংগ্রাম করতে হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। তাই বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন