প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বাড়ির নিকটে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা না থাকার কারণে মানুষকে চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্তে যেতে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে চিকিৎসাকেন্দ্রিক না রেখে রোগপ্রতিরোধমুখী করতে হবে। রোগ জটিল আকার ধারণ করার আগেই তা শনাক্ত ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারের একটি হলে ‘সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের বাস্তবায়নে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ইনোভেশন ফেয়ারের অংশ হিসেবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শনিবার সকালে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নভোথিয়েটার প্রাঙ্গণে আয়োজিত মেলা সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। এতে সার্বিক সহযোগিতা করছে স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশন্স লিমিটেড।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সবার জন্য সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। স্বাস্থ্যসেবাকে আধুনিক হাসপাতাল বা উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে, দেশের ৯০ হাজারের বেশি গ্রামে গ্রহণযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো উচিত। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের যেন চিকিৎসার জন্য দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে না হয় এবং হামে আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকরা যেন বাড়ির কাছেই স্বাস্থ্যসেবা পান, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করতে হবে এবং হামের টিকাদানে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে, যাতে কেউ এসব সেবা থেকে বাদ না পড়েন। হৃদ্রোগ দেশে পঙ্গুত্ব ও মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। সহজ জীবনযাপনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ এবং উন্নত চিকিৎসাসেবার সমন্বয় এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্যানসার সচেতনতা কর্মসূচি আরো বিস্তৃত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা দক্ষতার উদাহরণ তৈরি করেছে। তারপরও অনেক মানুষ নিজের অজান্তেই ডায়াবেটিস নিয়ে বসবাস করছেন।
স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ ধীরে ধীরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান ডা. জুবাইদা রহমান। একই সঙ্গে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। এ ক্ষেত্রে নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এসব স্বাস্থ্যকর্মী মানুষের রোগ শনাক্তকরণ (স্ক্রিনিং), মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘রোগ প্রতিরোধ নিরাময়ের চেয়ে উত্তম’—আমরা প্রায়ই এ কথা বলি। আর সেটিই সত্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন