প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুখ ও দুঃখ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জীবন থাকলে সুখ ও দুঃখ থাকবেই। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জীবনে কিছু না কিছু কষ্ট আছে। জীবনে কষ্টে পড়লে আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া উচিত। কোন অবস্থাতেই আমরা ভেঙে পড়তে পারি না।
কঠিন বিপদের মুহূর্তে যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখন চারটি আমল করার জন্য বলেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
সম্প্রতি ইউটিউবে অনুষ্ঠিত একটি আলোচনায় তিনি এই চারটি আমল করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আমি এই চারটি আমল করার পরামর্শ অনেক লোককে দিয়েছি। যারা এই আমল করেছেন, তারা সুফল পেয়েছেন। যদি এই আমল করার পরও বিপদ দূর না হয়, তাহলে বুঝতে হবে যে, আমলে হয়তো কোনো ত্রুটি আছে অথবা বিপদ দূর না হওয়ার মধ্যেই আল্লাহর আরেকটি কল্যাণ রয়েছে।
চারটি আমল হলো—
১. ইস্তেগফার: বিপদ আসলে বা কোথাও ফেঁসে গেলে বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়া উচিত। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেছেন, ‘যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব। যারা আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাদের তা দেব।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ইস্তেগফার পড়তে থাকবে, আল্লাহ তার জন্য সব দুশ্চিন্তা থেকে বের হওয়ার পথ অলৌকিকভাবে খুলে দেবেন।’
ইস্তেগফার হিসেবে নিচেরগুলো পড়া যেতে পারে:
ক. আসতাগ ফিরুল্লাহ (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি)।
খ. আসতাগ ফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাহি (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে ফিরে আসছি)।
গ. রাব্বিগ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়া, ইন্নাকা আংতাত তাউয়াবুর রাহিম। (হে আমার প্রভু, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তওবা কবুলকারী, করুণাময়।’ এছাড়া অন্যান্য ইস্তেগফারও পড়া যেতে পারে।
২. দরুদ পড়া: কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে বিশ্বাসীরা, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং বেশি পরিমাণে সালাম পাঠ করো।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৬)। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর ওপর দরুদ পাঠের মাধ্যমে আমাদের বিপদ দূর হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দরুদ পাঠের মাধ্যমে ব্যক্তির সব বিপদ দূর হবে। দরুদ পাঠ করলেই ব্যক্তি সবকিছু পেয়ে যাবে। হাদিসে বিভিন্ন দরুদ পাঠ করার বর্ণনা রয়েছে। সংক্ষিপ্ত দরুদ হলো—ক. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ। খ. সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদ। গ. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিইয়িল উম্মিইয়ি, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন।
৩. দোয়া ইউনুস: যে কোনো সংকট ও অস্থিতিশীল সময়ের জন্য দোয়া ইউনুস পড়া সুন্নত। এটি দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ দূর করে। বিপদ-আপদ দূর করে। হজরত ইউনুস (আ.) বিপদে পড়ার পর বারবার এই দোয়া পড়েছিলেন। এরপর আল্লাহ তার দোয়া কবুল করে তাকে সংকট থেকে মুক্তি দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে এই দোয়া পড়ে, আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন।’ সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)
dোয়া ইউনুস হলো—লা ইলাহা ইল্লা আনটা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জালিমিন।
৪. ‘ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম’ এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম’ দোয়াটি তোমরা আঁকড়ে ধরবে।’ এই দোয়া পাঠের মাধ্যমে আমরা নিজেদের আল্লাহর কাছে নিবেদন করি। আল্লাহর কাছে নিজেদের সমার্পণ করি। এছাড়া তাহাজ্জুদ ও বিভিন্ন নফল নামাজ পড়ারও পরামর্শ রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন