প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃষক কার্ড চালু হওয়ার ফলে মধ্যস্বত্বভোগীরা আর কোনো সুযোগ সুবিধা নিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।
তিনি এই বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের সমস্ত কৃষকদের একটি ডেটাবেস তৈরি হবে। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারব, কোন অঞ্চলে কী ধরনের ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় আলুর উৎপাদন বেশি, তাদেরকে আমরা চাহিদার পরিমাণ আগেই জানিয়েও দিতে পারব। এর ফলে কৃষকরা সে অনুযায়ী উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। এইভাবে যোগান এবং চাহিদার মধ্যে একটি সমন্বয় থাকতে পারলে মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা নিতে পারবে না।
আজ (শনিবার) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথাগুলো বলেন। এ সময় কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, একেক মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের সবজি বেশি উৎপাদিত হয়। অনেক সময় বেশি উৎপাদনের কারণে সবজির দাম পাওয়া যায় না। দেখা যায়, কৃষকের ক্ষেতের মধ্যে টমেটো থাকলেও, দাম না পাওয়ার কারণে তারা টমেটো তুলে না। কারণ, ক্ষেত থেকে বাজারে নিয়ে যাওয়ার খরচটাও তাদের ঢাকার প্রয়োজন হয় না। এতে কৃষকেরা ক্ষতির সম্মুখীন হন।
সরকার ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি মিনি কোল্ডস্টোরেজ করার পরিকল্পনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর কনসেপ্টের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। এসব কোল্ডস্টোরেজ সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ফলে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন না।
কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই সরকার কৃষকদের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে হতদরিদ্র কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকার ঋণ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষিকে আধুনিক এবং তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় আনতে কৃষক কার্ড চালু করেছে। এই কার্ডের আওতায় শুধু ধান, গম বা পাটচাষিই নয়; বরং লবণ, সুপারি, নারিকেল, পান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। এটি সরকারের কাছে প্রকৃত কৃষকের সংখ্যা, উৎপাদনের ধরন এবং ফসলভিত্তিক তথ্য প্রদান করবে। ভবিষ্যতে কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তাগুলি এই কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম ফিশারি ঘাটের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি সরকার খতিয়ে দেখবে। যদি অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়া ও দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঝাটকা সংরক্ষণ এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে সরকার জেলেদের সহায়তা প্রদান করছে। পাশাপাশি তাদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা গড়ে তুলার উদ্যোগ নিতে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে, যাতে তারা দাদননির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হোন। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ইলিশ রপ্তানি বৃদ্ধিও সরকারের লক্ষ্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন