প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, সংবাদ প্রকাশের পূর্বে সাংবাদিকদের একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা আবশ্যক।
গুজব, অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধের জন্য সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকতায় সত্যতা, নিরপেক্ষতা এবং বস্তুনিষ্ঠতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আজ মঙ্গলবার বাসস কার্যালয়ে সংস্থার সাংবাদিকদের মাল্টিমিডিয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে।
পিআইবির মহাপরিচালক (ডিজি) ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণে বাসসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফজলুল হক, চিফ রিপোর্টার (ইংরেজি) জি এম রাজিব হোসেন, চিফ রিপোর্টার (বাংলা) মো. দিদারুল আলম এবং পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন উপস্থিত ছিলেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা শুধুমাত্র একটি পেশা নয়, বরং এটি সমাজের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জনগণকে সঠিক, নির্ভুল এবং সময়োপযোগী তথ্য প্রদান, জনমত গঠন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্ষমতাসীন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সাংবাদিকতার গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশেও সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আইন, নৈতিকতা এবং পেশাগত আচরণবিধি মেনে চলা জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ব্যক্তির গোপনীয়তা এবং মানবিক মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা অত্যাবশ্যক। জনস্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো ভুল তথ্য প্রকাশিত হলে তা দ্রুত সংশোধন এবং প্রয়োজন হলে ক্ষমা প্রকাশের মানসিকতা থাকতে হবে।
সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, হিংসা, সহিংসতা এবং ধর্মান্ধতা উসকে দিতে পারে—এমন বিষয় প্রকাশের ক্ষেত্রে সর্বাধিক সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
বাসসের প্রধান সম্পাদক মোবাইল সাংবাদিকতাকে ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা এবং প্রচারের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট পিসির মতো ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত সংবাদ তৈরি ও পরিবেশন করা সম্ভব হচ্ছে। একজন মোবাইল সাংবাদিক একই ডিভাইস ব্যবহার করে ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ, ভয়েস রেকর্ডিং, সম্পাদনা এবং সংবাদ উপযোগী কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করতে সক্ষম।
পিআইবির মহাপরিচালক (ডিজি) ফারুক ওয়াসিফ বলেন, সংবাদ তৈরির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঘটনার উপরিভাগ তুলে ধরলেই হবে না, ঘটনার ভেতরের মানবিক দিকটিও খুঁজে বের করতে হবে। একটি ঘটনার প্রাণ কোথায়, মানুষের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা কী—সাংবাদিককে তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। সংবাদ তৈরির সঙ্গে সাংবাদিকের বিবেক ও দায়িত্ববোধের সম্পর্ক থাকতে হবে।
ফারুক ওয়াসিফ আরও বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্যযুদ্ধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো ব্যক্তি জেনে বা না জেনে এমন তথ্য প্রচার করতে পারেন, যা দেশের স্বার্থ, সমাজ ও গণতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। তাই তথ্য যাচাই, অপতথ্য ও গুজব শনাক্তকরণ এবং গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা সবার জন্য জরুরি।
উল্লেখ্য, এই প্রশিক্ষণে বাসসের ৩৭ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন