প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টানা ৪৫ মাস পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারো ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দিন শেষে মোট (গ্রস) রিজার্ভ ৩৭ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৪৮০ বিলিয়ন (৩২,৪৭৯.৮৮ মিলিয়ন) ডলার হিসাব করা হয়েছে।
চলতি মাসের প্রথম দিন, ১ জুন, মোট রিজার্ভ ৩৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার ছিল। সেটার তুলনায়, এক মাসের মধ্যে মোট রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।
আগের বছরের ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারে ছিল। কিন্তু আমদানি ব্যয় পরিশোধের চাপের কারণে পরদিন রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়।
২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে কমে গিয়েছিল। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমদানি বিলের পরিশোধে ৭০ মিলিয়ন ডলার বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে বিক্রি করে, যার ফলে রিজার্ভে এই পতন ঘটে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় মোট রিজার্ভ ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে যায়। আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব অনুযায়ী তখন রিজার্ভ ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছিল।
পরে যখন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন ডলারের বিনিময় হার ধীরে ধীরে বাজারভিত্তিক করা হয়। এই সাথে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং আমদানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধও ধাপে ধাপে শিথিল করা হয়। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি শুরু হয় এবং রিজার্ভ পুনরুদ্ধারের হার আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্ব নেয়ার সময় দেশের মোট রিজার্ভ প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছিল। আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব অনুযায়ী তখনও তা প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারই ছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ফলে রিজার্ভ আবার ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ফিরে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় বিবেচনায় নিলে, এ রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিকভাবে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহের সক্ষমতাকে নিরাপদ রিজার্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন