প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার পরও ভারতীয় ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না আজিঙ্কা রাহানে। জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর পরও এই অভিজ্ঞ ব্যাটার ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পেনশন নীতিমালার আওতায় নিয়মিত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করবেন। ৫০টির বেশি টেস্ট খেলার কারণে বোর্ডের সর্বোচ্চ পেনশন শ্রেণিতে তার জায়গা হয়েছে।
গত ৩০ জুলাই তিনি সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। ২০১১ সালে ওয়ানডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অভিষেক করা এই ডানহাতি ব্যাটার ভারতের হয়ে ৮৫টি টেস্ট, ৯০টি ওয়ানডে এবং ২০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন। এত দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বিসিসিআইয়ের বর্তমান পেনশন নীতিমালার অনুযায়ী, যারা ৫০টির বেশি টেস্ট খেলেছেন, তারা সর্বোচ্চ শ্রেণির পেনশনের জন্য যোগ্য। এর ফলে রাহানে প্রতি মাসে ৭০ হাজার ভারতীয় রুপি পেনশন পাবেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯০ হাজার টাকার সমমান।
তবে এই সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। ভবিষ্যতে যদি রাহানে বিসিসিআইয়ের অধীনে কোচ, নির্বাচক কিংবা অন্য কোনো বেতনভুক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে দায়িত্ব পালনকালীন সময় তার পেনশন সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর আবার আগের নিয়মে পেনশন চালু হবে।
ভারতের সাবেক ও বর্তমান আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য দীর্ঘদিন থেকেই পেনশনের সুবিধা দিয়ে আসছে বিসিসিআই। ২০২২ সালে এই কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়। পূর্বে ৫০টির বেশি টেস্ট খেলা সাবেক ক্রিকেটাররা মাসে ৫০ হাজার রুপি পেতেন। সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বাধীন বোর্ড এই অঙ্ক বাড়িয়ে ৭০ হাজার রুপি করে। একই সময়ে ২৫ থেকে ৫০টি টেস্ট খেলা ক্রিকেটারদের মাসিক পেনশন ৩৭ হাজার ৫০০ রুপি থেকে বাড়িয়ে ৬০ হাজার রুপি করা হয়।
রাহানের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটি আসে ২০২০-২১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে। নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলি ব্যক্তিগত কারণে দেশে ফিরে যাওয়ার পর দলের নেতৃত্ব পান রাহানে। তার নেতৃত্বে ব্রিসবেনে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়ে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি ভারত ধরে রাখে। সেই সিরিজ জয়কে ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অবসরের পর রাহানে ভবিষ্যতে কোচিং, ধারাভাষ্য কিংবা ক্রিকেট প্রশাসনে যুক্ত হবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেননি। তবে মাঠ ছাড়লেও বিসিসিআইয়ের পেনশন সুবিধার মাধ্যমে ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে তার সম্পর্ক অটুট থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন