প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারায়ণগঞ্জ, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। এর ফলে দেশের অর্থনীতিও সচল হচ্ছে। বিশেষত তৈরি পোশাক ও শিল্পকারখানায় হাজার হাজার নারী শ্রমিকের দিনরাতের কঠোর পরিশ্রম দেশের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের কোলাহল ও শীতলক্ষ্যার ওপার ঘেঁষে বন্দর উপজেলার রাজবাড়ি এলাকা অবস্থিত। এই অঞ্চলের চারপাশে গড়ে উঠেছে শত শত তৈরি পোশাক ও শিল্পকারখানা। এসব কারখানার কর্মীরা সাধারণত স্যাঁতসেঁতে, ঘিঞ্জি এবং নিরাপত্তাহীন ভাড়া ঘরে বসবাস করেন। শ্রমজীবী নারীদের দিনশেষে ঘিঞ্জি এবং নিরাপত্তাহীন আবাসে ফিরতে হয়। তবে, এই চিত্র শীঘ্রই পরিবর্তিত হতে যাচ্ছে।
শ্রমজীবী নারীদের নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে এবং উন্নত জীবনের সুযোগ দিতে নারায়ণগঞ্জে নির্মিত হয়েছে ৯তলা বিশিষ্ট আধুনিক শ্রমজীবী মহিলা হোস্টেল। শ্রম অধিদপ্তরের ৪৫.৬৮ শতাংশ জমিতে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনটি অসহায় ও স্বল্প আয়ের নারী শ্রমিকদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করবে।
শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের সূত্র জানাচ্ছে, ২০১৮ সালের ৭ জুলাই এ হোস্টেলের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর এটি সম্পন্ন হয়। প্রায় ৭৯,৬৪৮ বর্গফুটের বিশালাকার এই ভবনে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
বাইরে থেকে দেখতে দৃষ্টিনন্দন ৯তলা এই ভবনের ভেতরে প্রবেশ করলে পরিচ্ছন্ন ও সুরক্ষিত পরিবেশ চোখে পড়ে। নারী শ্রমিকদের জন্য এখানে রয়েছে প্রশস্ত কক্ষ ও হলরুম। একক সিঙ্গেল রুম ২৪টি, ডাবল বেডের রুম ৮টি এবং চার বেডের রুম ১৪২টি। সব মিলিয়ে ১৭৪টি কক্ষে সর্বমোট ৬শ’৮ জন নারী শ্রমিক থাকতে পারবেন।
হোস্টেলে বিশেষ নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা রয়েছে। সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরাসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রতিটি ফ্লোরে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য পাঁচ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়াও উন্নত মানের ক্যান্টিন সুবিধা, সুব্যবস্থাসম্পন্ন লন্ড্রি সার্ভিস, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ বা আশেপাশের ঘনবসতি এলাকায় সাধারণ একটি ছোট ঘর ভাড়া নিতে হাজার হাজার টাকা গুনতে হয়, কিন্তু এ হোস্টেলে চার বেডের বা দুই বেডের রুমে প্রতি সিটের ভাড়া মাসিক মাত্র ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একক সিঙ্গেল রুমের জন্য ভাড়া রাখা হয়েছে ২ হাজার টাকা।
শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক কারখানার শ্রমিকরাই নয়, নির্দিষ্ট শর্তাবলি মেনে যেকোনো কর্মজীবী নারী শ্রমিক এ হোস্টেলে সিট বরাদ্দ নিতে পারবেন। আবেদনের জন্য শ্রম অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট বা হোস্টেল কার্যালয় থেকে সরাসরি ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে।
সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হোস্টেলটির চারপাশে ২১৪টি কারখানা রয়েছে, যেখানে কাজ করছেন ১৪ হাজার ৩৩৮ নারী শ্রমিক।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিপুল সংখ্যক নারী শ্রমিককে টার্গেট করে প্রচারণা চালালে তাদের আবাসন সংকট অনেকাংশে কাটিয়ে উঠতে পারবেন। নারায়ণগঞ্জ শহরের নারী শ্রমিকরা নদী পার হয়ে সহজেই স্বল্প দূরত্ব ও খরচে এখানে এসে থাকতে পারবেন।
বন্দরের ইপিলিয়ন নিটওয়্যারস লিমিটেডে কর্মরত নারী শ্রমিক ফাতেমা তার অনুভূতি প্রকাশ করে বাসসকে জানান, ‘আমাদের মধ্যে অনেকেই গ্রাম থেকে এসে শহরে চাকরি করি। কিন্তু থাকার মতো ভালো ও নিরাপদ জায়গা পাই না। দু-একটি পাওয়া গেলেও খরচ অনেক বেশি। এত অল্প খরচে এতো ভালো সুযোগ-সুবিধায় থাকতে পারা আমাদের মতো শ্রমিকদের জন্য অনেক বড় বিষয়। সরকার আমাদের জন্য এমন একটা ভালো থাকার জায়গার ব্যবস্থা চালু করায় তাদের অনেক ধন্যবাদ।’
নারী শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বাসসকে জানান, বর্তমান সরকার শ্রমজীবী নারীদের আবাসন সংকট দূর করতে এ হোস্টেল চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে নারী শ্রমিকরা নিরাপত্তার পাশাপাশি আধুনিক জীবনযাত্রার সুযোগ-সুবিধা পাবেন। থাকার ভালো পরিবেশ পেলে তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে, যা তাদের কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ফলস্বরূপ, এই ইতিবাচক প্রভাব আমাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গতি বৃদ্ধি করবে এবং জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন