প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার যানজট নিরসনে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পথে একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর ব্যস্ততম শাহবাগ মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) শাহবাগ মোড়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এই আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো তীব্র যানজট। এর ফলে নাগরিকদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে প্রতিদিন। এই সমস্যার টেকসই সমাধানে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন চলাচলকে নিয়মতান্ত্রিক ও গতিশীল করার জন্য একটি বিশেষ পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এই আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সরাসরি কারিগরি সহায়তায় এই সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। শাহবাগ মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে।
ডিএসসিসির অধীনে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত আটটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এই সিগন্যাল ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানগুলো হলো বাংলামটর, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, মিন্টো রোড, কাকরাইল সার্কেল, মৎস্য ভবন, কদম চত্বর, শিক্ষা ভবন এবং শাহবাগ মোড়।
এটি উল্লেখ করা যেতে পারে যে, শাহবাগ মোড়ে বৃহস্পতিবার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও জানান, এই কার্যক্রম এখানেই শেষ হচ্ছে না। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে খুব শিগগির ডিএসসিসির আওতাধীন আরও ২২টি ইন্টারসেকশনে এই সিগন্যাল চালু করা হবে।
নতুন এই অটোমেটিক সিগন্যাল কার্যকর হলে মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশকে আগের মতো সার্বক্ষণিকভাবে ম্যানুয়াল বা হাতে সংকেত দেওয়ার প্রয়োজন হবে না বলে প্রশাসক জানিয়েছেন। কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা সফলভাবে চালু রাখতে তিনি কঠোর আইনানুগ অনুশাসন ও নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, রাস্তার ওপর যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের মানসিকতা এবং অবৈধ পার্কিংয়ের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। চালক ও পথচারীদের আইন কিংবা সিগন্যাল অমান্য করার প্রবণতা সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় ট্রাফিক সতর্কীকরণ সাইন, রোড মার্কিং, জেব্রা ক্রসিং এবং নির্দিষ্ট লেন কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারসেকশনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা কিংবা ভাসমান দোকান না রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, ডিজিটালাইজেশন সফল হলে নগরের কোটি মানুষের কর্মঘণ্টা বাঁচবে। তদুপরি, ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের রোদে পুড়ে এবং বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালনের পেশাগত দুর্ভোগও কমবে। আধুনিক প্রযুক্তির সুফল ধরে রাখতে ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগও নিশ্চিত করা হবে, এবং ঢাকা নগরীকে একটি গতিশীল ও আধুনিক স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কার্যকর সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে৷
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হাদিউজ্জামান এবং ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন