প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ ও সদর উপজেলায় একই দিনে এক কিশোরী ও এক কিশোর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালবেলা বোচাগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর রনগাঁও ইউনিয়নের শ্রীমহন্তপুর গ্রামের পরেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে প্রিয়া রানী দাসের (১৪) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উল্লেখ্য, তিনি দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।
একই দিন সন্ধ্যায়, দিনাজপুর সদর উপজেলার ৫ নম্বর শশরা ইউনিয়নের উমরপাইল জালিয়াপাড়া এলাকায় কাকন রায়ের (১৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কাকন বোচাগঞ্জ উপজেলার একই গ্রামের পরিতোষ রায়ের ছেলে। গত বছর তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফেল করেন।
স্থানীয়রা জানায়, কাকন তার নানা নেপাল চন্দ্র রায়ের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।
দীর্ঘ সময় কাকন রায় ফিরে না আসায়, নানার বাড়ীর লোকজনের সন্দেহ হয়। কারণ সকালে কাকন রায়ের গ্রামের প্রিয়া রানী দাস নামে এক কিশোরীর লাশ পুলিশ তার নিজ ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে।
আত্মহত্যার খবরটি গ্রামের সবাই জানত। তখন নানার বাড়ীর সদস্যরা ও প্রতিবেশীরা কাকন রায়কে খুঁজতে শুরু করে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ীর সামনে আত্রাই নদীর ধারে একটি গাছের ডালে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় কাকন রায়ের লাশ দেখতে পায়।
এটি প্রকাশ পায় যে, সকালে আত্মহত্যা করা প্রিয়া রানী দাসের সঙ্গে কাকন রায়ের সম্পর্ক ছিল। কাকন রায়ের নানা শ্রী নেপাল চন্দ্র রায় বিষয়টি ৫নং শশরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির আনাফকে অবগত করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির আনাফ জানান, কাকন রায় নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। স্থানীয়ভাবে জেনে যায় যে, তার ওই কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। সোমবার রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে ওই মেয়ে আত্মহত্যা করে। তারপর মঙ্গলবার সকালে বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। পরে, যখন মেয়েটির মরদেহ সৎকার করা হচ্ছিল, তখন কাকন অন্যদিকে নিজেই রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রিয়া ও কাকনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রিয়ার মৃত্যুর খবর জানার পর কাকনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
তবে এ বিষয়ে দুই পরিবারের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রিয়া রানী দাসের মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। কাকনের মৃত্যুর ঘটনাটি দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার অধীনে হওয়ায় সেটি সংশ্লিষ্ট থানা তদন্ত করছে।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরনবী কাকনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে জানা যায়, একই গ্রামের এক কিশোরীর মৃত্যুর পর কাকনের মৃত্যু ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, দুজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের সম্পর্ক দুই পরিবার মেনে নেয়নি। সে কারণেই আবেগের বসবাসে তারা আত্মহত্যা করেছে। বিষয়টি ভালো নয়, ছেলে মেয়েদের এত বেশী আবেগি হওয়া ঠিক নয়। বাবা মা পরিবারের বিষয়টিও তাদের ভাবা উচিত ছিল। তাহলে তারা এই কাজটি করতে পারতেন না।
তবে এ বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ জানার জন্য তদন্ত চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন