প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানিকগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলা করার অভিযোগে মোসা. লাভলী আক্তারকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই মামলায় অভিযুক্ত স্বামী মো. আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার বাদী ও আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন মানিকগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ নম্বর আদালতের বিচারক দোলন বিশ্বাস। আদালত লাভলী আক্তারকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশও দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি মো. আরিফুল ইসলাম রতনের সঙ্গে লাভলী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের মধ্যে নানা কারণে বিরোধ দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ১৫ মার্চ স্বামী ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে লাভলীকে মারধর করে বাড়ি থেকে নতুন করে বের করে দিয়েছেন—এমন অভিযোগ এনে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলা করেন লাভলী।
মামলাটিতে বাদীসহ মোট তিনজন সাক্ষ্য প্রদান করেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরার সময় আদালতে প্রমাণিত হয়, বাদীর আরজিতে যে ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, সেই ঘটনার প্রায় সাত মাস আগেই মামলার অভিযুক্ত রতন বিদেশে চলে যান। এজন্য বাদীপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে আদালত রতনকে বেকসুর খালাস দেন এবং একই সঙ্গে লাভলী আক্তারকে মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।
বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. আজিজ উল্লাহ। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন কহিনুর। রায়ের পর লাভলী আক্তারের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট সমাপ্তি আক্তার বলেন, ১০ দিনের সাজা হওয়ায় আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। পরে আদালত মানবিক দিক বিবেচনা করে এক মাসের মধ্যে আপিল করার শর্তে এক হাজার টাকা বন্ডে লাভলী আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেন।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল ইসলাম মন্তব্য করেন, মিথ্যা মামলা করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি সংকুচিত করার জন্য এ ধরনের রায় গুরুত্বপূর্ণ। যদিও কারাদণ্ডের পরিমাণ কম, তবে এটি একটি বার্তা হিসাবে কাজ করবে—মিথ্যা মামলা দায়ের করলে শাস্তির সম্মুখীন হতে হতে পারে মামলা বাদীকেও। একটি দৃষ্টান্ত সৃষ্টির ফলে সমাজে ঢালাওভাবে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট আবুল বাশার শুভ জানান, এই বার্তাটি সারাদেশে প্রচার করা উচিত। কারণ মিথ্যা মামলা মিথ্যা। এটি করা একেবারেই ঠিক নয়। এতে লাভের তুলনায় সামাজিক ক্ষতির পরিমাণই বেশি। তাই মিথ্যা মামলা এড়ানোর স্বার্থে এই মামলাটিকে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন