প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চরফ্যাশন উপজেলা শাখা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করেছে।
বুধবার বিকেল ৪টায় চরফ্যাশন কেন্দ্রীয় খাসমহল মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামায়াতের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা শাখার সেক্রেটারি কাজী মাওলানা হারুন অর রশিদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চরফ্যাশন উপজেলা শাখার আমির অধ্যক্ষ মীর শরীফ হোসেন।
কাজী মাওলানা হারুন অর রশিদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে সন্ত্রাসীরা লগি-বৈঠা নিয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এই ঘটনায় জামায়াতের ছয়জন নেতাকর্মী নিহত হন। হামলাকারীরা শুধু সেখানে থেমে থাকেনি; বরং লাশের ওপর নৃত্য করে গোটা বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করেছে। তারা বাংলাদেশের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে এবং ২৮ অক্টোবরের ঘটনাতেই তাদের খুনি ও মানবতাবিরোধী অপরাধী হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, সেদিন জামায়াতের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে দলটির সভা বানচাল করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে জামায়াতের তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নেতৃত্বে সভা সম্পন্ন হয়। নেতাকর্মীরা সেদিন পল্টন এলাকায় মানবপ্রাচীর গড়ে তুলেছিলেন এবং হামলা প্রতিহত করেছিলেন। ফলে তাদের পরিকল্পনা সফল হয়নি এবং তারা রাস্তায় যাঁদের পেয়েছে, তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
কাজী মাওলানা হারুন অর রশিদ অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর ওই মামলার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন এবং মামলাসংক্রান্ত নথিপত্র গায়েব করে দেন। তিনি শেখ হাসিনাসহ ওই মামলার অভিযোগপত্রে থাকা সব আসামির বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি আরো বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় কার্যকর করতে হবে। বাতিল করা অধ্যাদেশগুলো পুনরায় পাস করার দাবি জানান তিনি।
অধ্যক্ষ মীর শরীফ হোসেন সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেদিন জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা বুক চিতিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ পথপরিক্রমার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল।
তিনি বলেন, এ দেশে আর বিভাজন, খুন, হত্যা ও চাঁদাবাজির রাজনীতি চলবে না। জামায়াত যত দিন আছে, তত দিন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব অন্যায় ও অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
অধ্যক্ষ মীর শরীফ হোসেন আরো বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে তাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশ থেকে বক্তারা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচার, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।
সংগঠনের সেক্রেটারি মাওলানা আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এনামুল হক রায়হান, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মাওলানা জহির উদ্দিন এবং ছাত্রশিবিরের পৌর সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অফিস সম্পাদক অধ্যাপক রেজাউল হাসান ইমরান, অ্যাডভোকেট আবু জাফর প্রমুখ।
এআরবি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন