০৭:২৫ পি.এম
ঈদুল আজহার ছুটি শেষ হয়েছে প্রায় ১০ দিন আগে। স্বাভাবিক নিয়মে এ সময় গণপরিবহনের ভাড়া পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসার কথা থাকলেও লক্ষ্মীপুর-ঢাকা রুটে এখনও যাত্রীদের কাছ থেকে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বাসের টিকিটের ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ভাড়া হিসেবে ৭০০ টাকা আদায়ের তথ্য সামনে আসে। যাত্রীরা বলছেন, ঈদকেন্দ্রিক অতিরিক্ত ভাড়ার যৌক্তিকতা শেষ হলেও কিছু পরিবহন প্রতিষ্ঠান এখনও বাড়তি অর্থ আদায় করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) প্রকাশিত আন্তঃজেলা বাস ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা-রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) রুটে ৫১ আসনের বাসের নির্ধারিত ভাড়া ৪৪৫ টাকা এবং ৪০ আসনের আরামদায়ক বাসের ভাড়া ৫৬৮ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন পরিবহন প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত ভাড়া তালিকায় ঢাকা-লক্ষ্মীপুর রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া প্রায় ৪৫০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ৫৫০ টাকার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে।
আরও পড়ুন: (ছবি আছে) জিয়ানগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন
সে হিসেবে বর্তমানে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হলে যাত্রীপ্রতি ১৩০ থেকে ২৫০ টাকারও বেশি অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, অনেক কাউন্টারে টিকিটে নির্ধারিত ভাড়ার পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে বলা হচ্ছে, “গাড়ি কম, যাত্রী বেশি” অথবা “ঈদের চাপ এখনো রয়েছে।”
যাত্রীদের অভিযোগ, শুধু ইকোনো সার্ভিস নয়, লক্ষ্মীপুর-ঢাকা রুটে চলাচলকারী আরও কয়েকটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ঈদ-পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ রুটে ইকোনো সার্ভিস, হিমাচল এক্সপ্রেস, ঢাকা এক্সপ্রেস, আল-আরাফাহ এক্সপ্রেস, রয়্যাল কোচ, মিয়ামি এয়ার কন্ডিশন ও জোনাকি সার্ভিস লাইনসহ বিভিন্ন পরিবহন যাত্রী পরিবহন করে থাকে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ইকোনো সার্ভিসের একটি ৭০০ টাকার টিকিটকে ঘিরে।
এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, থানায় জিডি করলেন বাবা
“ঈদ শেষ হওয়ার ১০ দিন পরও যদি ৭০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়, তাহলে সরকারি ভাড়ার তালিকার প্রয়োজন কী? সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।”
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। গত ১২ জুন লক্ষ্মীপুরে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে দুটি বাস কাউন্টারসহ মোট ২৪টি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়। অভিযানে টিকিটে ভাড়ার পরিমাণ উল্লেখ না করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণও পাওয়া যায়।
যাত্রীদের প্রশ্ন, সরকারি নির্ধারিত ভাড়া যদি ৪৪৫ থেকে ৫৬৮ টাকার মধ্যে হয়, তাহলে কোন নিয়মে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে? সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষ কি বিআরটিএর নির্দেশনা মানছে না?
পরিবহন খাত-সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাবে কিছু অসাধু পরিবহন ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।
আরও পড়ুন: তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে অসহায় ফয়সালের পরিবার, এক আয়ে চলে আটজনের সংসার
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, লক্ষ্মীপুর-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর ভাড়া তালিকা প্রকাশ, কাউন্টারভিত্তিক মনিটরিং জোরদার এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় সাধারণ যাত্রীরা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির শিকার হবেন।
তাদের দাবি, ঈদকে কেন্দ্র করে নয়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া আদায় নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), জেলা প্রশাসন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এর জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন