প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডজুড়ে টানা তিন দিন ধরে অসাধারণ তীব্র বজ্রঝড় এবং অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া দফতরের, মেট অফিসের, তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত যে ২৪ ঘণ্টার সময়ের মধ্যে ২৯ হাজার ৭৪টি বজ্রপাত রেকর্ড করা হয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ১৮,৫৪০টি বজ্রপাত একাই সোমারসেট অঞ্চলে ঘটেছে।
মেট অফিস এক বিবৃতিতে বলেছে, এই রকমের বজ্রপাত একটি খুবই শক্তিশালী এবং অস্থিতিশীল আবহাওয়া সিস্টেমের সংকেত, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে।
বজ্রঝড়ের কারণে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়িতে আগুন লেগেছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছে এবং পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখযোগ্য অগ্নিকাণ্ডগুলোর একটি ঘটে ব্রিস্টলের এমারসনস গ্রিন এলাকায়, যেখানে গতকাল সোমবার (২২ জুন) আনুমানিক ৫টা ৫৫ মিনিটে বজ্রপাত সরাসরি একটি আবাসিক বাড়ির ছাদে আঘাত হানে।
অ্যাভন ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের অপারেশন কমান্ড ইউনিট জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তারা দেখেন যে, ‘বাড়িটিকে সম্পূর্ণভাবে আগুনে জ্বলতে’ দেখা যাচ্ছে এবং এর পর একাধিক ইউনিট দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে।
সার্ভিসটির একজন মুখপাত্র স্থানীয় গণমাধ্যমে মন্তব্য করেন, ‘ক্রুদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আগুন পাশের বাড়িতে ছড়াতে সক্ষম হয়নি এবং সকল বাসিন্দাকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’
অন্যদিকে, লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড জানায়, তারা রাতভর বজ্রঝড়ের কারণে প্রায় ৪০০টির মতো জরুরি কল পেয়েছে, যার মধ্যে বজ্রপাতজনিত অগ্নিকাণ্ড, পানি জমে যাওয়া এবং ছোট আকারের দুর্ঘটনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানায়, লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের ডেপুটি কমিশনারের দপ্তরের বরাত দিয়ে, ‘আমাদের দলগুলো একসঙ্গে বহু ঘটনাস্থলে কাজ করেছে এবং সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের ফায়ার স্টেশনগুলোতে।’
মেট অফিসের বিশ্লেষণে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, এই ধরনের বজ্রঝড় সাধারণত উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাসের দ্রুত গতির উর্ধ্বমুখী প্রবাহের কারণে সৃষ্টি হয়, যা বজ্রপাতের ঘনত্বকে হঠাৎ করে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে সক্ষম।
সংস্থাটির আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঝড়ের তীব্রতা বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের সোমারসেট, ব্রিস্টল ও ডরসেট এলাকায় সবচেয়ে বেশি ছিল। তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, চলমান তাপপ্রবাহের ফলে এই পরিস্থিতি আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
দমকল ও জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক মূল্যায়নে জানা গেছে, ‘বজ্রপাতজনিত অগ্নিকাণ্ডে একাধিক বাড়ির ছাদ ও কাঠামো আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিছু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি সাময়িকভাবে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ছোট অগ্নিকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনায় প্রায় ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। যদিও বড় ঘটনার ক্ষেত্রে এই পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।’
আবহাওয়াবিদ এবং জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ উভয়েই সতর্ক করে জানিয়েছে, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপজুড়ে এমন চরম তাপপ্রবাহ ও বজ্রঝড়ের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে, যা অবকাঠামো এবং জননিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন