প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিয়ে দুই মাদক কারবারি মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত এক মাদকবিরোধী সভায় তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে আর মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না থাকার অঙ্গীকার করেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী সভায় তাদের এই ঘোষণা এসেছে। মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার দুই ব্যক্তি হচ্ছেন, বুরুমদী গ্রামের হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার ছেলে মাছুম ভূঁইয়া এবং মজিবুর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান পিয়ার।
স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, সম্প্রতি বুরুমদী গ্রামে মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকের প্রভাবে এলাকার বহু তরুণ বিপথগামী হচ্ছে এবং মাদকের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আল মুজাহিদ মল্লিকের উদ্যোগে ওই মাদকবিরোধী সভার আয়োজন করা হয়। সভার পর প্রায় দুই ঘণ্টার আলোচনা শেষে মাছুম ভূঁইয়া ও হাবিবুর রহমান পিয়ার ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিয়ে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
মাছুম ভূঁইয়া মন্তব্য করেছেন, ‘এক সময় ভুল করেছি। ভবিষ্যতে আর এ ব্যবসার সঙ্গে জড়াব না। সমাজকে ভালো রাখতে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিচ্ছি। যদি কখনো আবার এ পথে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়, তাহলে স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করব।’
সভায় জামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইয়ামিন মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আল মুজাহিদ মল্লিক। এছাড়া স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আল মুজাহিদ মল্লিক বলেছেন, ‘বুরুমদী একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। এ গ্রামের পরিবেশ মাদকের ছোবলে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। সবাই মিলে তাদের মাদক ব্যবসা থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও মাদক প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।’
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার মন্তব্য করেছেন, ‘মুচলেকা দিয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়ার ঘোষণা ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধু ঘোষণা নয়, তারা বাস্তবে মাদক থেকে দূরে থাকে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের নজরদারি থাকবে। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারলে সমাজ ও রাষ্ট্র উভয়ই উপকৃত হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন